‘আর বাঁচার আশা নেই… অত উঁচু থেকে পড়ে… মাথাটা ফেটে গিয়ে… আমাকে দেখে ভয় পেয়ে যায় মা…’, কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন মৈত্রেয়ী মিত্র

মৈত্রেয়ী মিত্র

বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র। ‘সুবর্ণলতা হোক’ বা ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ছোটপর্দার একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে চুটিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২৫ বছর ধরে অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত মৈত্রেয়ী। তবে জীবনে প্রথম শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ ভয়ঙ্কর ছিল। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে সেই ঘটনাই তুলে ধরলেন অভিনেত্রী। যা দেখে রীতিমত অবাক নেটপাড়া।

আচমকাই অভিনেত্রীর মন্তব্য, ‘হয়তো সেদিন মরেই যেতুম , কিন্তু রাখে হরি তো মারে কে।’ ঠিক কি হয়েছিল অভিনেত্রীর সাথে? মৈত্রেয়ী লেখেন, ‘জীবনে প্রথম দিন শুটিংয়ে যাচ্ছি ” সাঁঝবাতির রূপকথারা “। একটা বাড়িতে শুটিং ছিল কিন্তু লোকেশন টা ঠিক এই মুহূর্তে মনে নেই আসলে তখন রাস্তাঘাট চিনতুম না, তবে মেট্রো করে গেছিলুম এটা মনে আছে । আমি আর মা , একদম নতুন তো একলা যেতে ভয় করত । আমার কাঁধে একটা বড় ভারী ব্যাগ, তার মধ্যে অনেক জামাকাপড়, খাবার , জল সব ছিল। প্রথম দিন শুটিংয়ে যাচ্ছি তাই একটু টেনশনে ছিলুম একটু নার্ভাসও ছিলুম ।

মাকে বললুম, তুমি ধীরে ধীরে এসো, আমি গিয়ে ততক্ষণ টিকিটটা কাটছি । শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে ঢুকেছি, মণীন্দ্র কলেজের উল্টোদিকের স্টেশনটাতে, উপরের দিকে তাকিয়ে ঘড়িটা দেখলুম ট্রেন আসতে মিনিট পাঁচেক দেরী আছে । মনে মনে হিসেব করতে করতে এগোচ্ছি, কতক্ষণ সময় লাগবে, ভাবতে ভাবতে কখন যে ল্যান্ডিং শেষ হয়ে সিঁড়ি শুরু হয়ে গেছে সেটা আমি বুঝতে পারিনি । তাই হঠাৎ অনুভব করলুম আমি নিচের দিকে পড়ছি, মাথাটা নিচে পা টা উপরে আর কাঁধে সেই বড় ব্যাগ।

আমি তখন একটা জিনিসই ভাবছিলাম যে আমার আজকে বোধহয় বাঁচার কোন উপায় নেই। ওই অত উঁচু থেকে নীচে যে মুহূর্তে পরব, আমার মাথাটা ফেটে যাবে। কি অদ্ভুত সেই মুহূর্তে আমি ভয় পাইনি বারবার মনে হচ্ছিল আমাকে বাঁচতে হবে, আমি কি করে নিজেকে বাঁচাতে পারবো। প্রতিটা সিঁড়ি হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করছি কিন্তু স্লিপ করে নেমে যাচ্ছি , কিছুতেই নিজেকে থামাতে পারছিলুম না । কিন্তু কথায় আছে না রাখে হরি তো মারে কে লাস্ট দুটো সিঁড়ি আগে সিঁড়ির কর্নারটা আমি চেপে ধরতে পারলাম আর আমি ঠিক ওইভাবে পা উপরে মাথা নিচে ওইভাবে পড়ে আছি।

আমি সোজাও হতে পারছি না । কারণ কাঁধে ভারী একটা ব্যাগ ,আমি সোজা হতে গেলে ওই ব্যাগের ভারে আরো পড়ে যাব । মনে মনে শুধু ভাবছি , মা যদি স্টেশনে ঢুকে আমাকে ওইভাবে দেখে , মা ভয় পেয়ে যাবে। কি যে করব নিজেই বুঝতে পারছিলুম না । কিন্তু আমরা একটা কাজই করতে পারি বিপদে পড়লে শুধু মাকেই ডাকতে পারি তাই ওই অবস্থায় ক্ষীন গলায় মা ও মা করে ডাকছিলুম । একজন ভদ্রলোক আমার গলা শুনে শুনতে পেয়ে দৌড়ে এলেন আর ঠিক তখন মাও হাজির হয়েছে । দুজনে মিলে আমাকে তুলল । আমি আজও বিশ্বাস করি ওনাকে জগন্নাথ দেবই পাঠিয়েছিলেন তাই আজও বেঁচে আছি । তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ওই ব্যাগ ঘাড়ে নিয়েই মেট্রো করে আমি আর মা শুটিংয়ে হাজির হলুম । শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা সেদিন দারুণ ছিল। সেই গল্প বলবো আরেকদিন ।

Previous articleকর্ম নিয়ে কার্যকরী কিছু উক্তি । Effective Work Quotes
Sudeshna Jana
হাই, আমি সুদেষ্ণা জানা। আমার প্যাশন লেখালেখি করা। আমি একজন লেখিকা। মানুষকে এন্টারটেইনমেন্ট করতে পছন্দ করি। তাই বিনোদন সংক্রান্ত বিষয় লেখালেখি করতে বেশি পছন্দ। দর্শকদের এন্টারটেইনমেন্ট দেওয়ার জন্য বিশ্বের সমস্ত ধরণের বিনোদন নিউজ তাদের কাছে এগিয়ে দেওয়াই আমার কাজ। বিভিন্ন ধরণের বিনোদন পেতে আমাদের এই পেজে অনুসরণ করুন।