
২০২২ সালে স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তী চলে যাওয়ার পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন শঙ্কর চক্রবর্তী। আলো ঝলমলে শুটিং শেষে ফাঁকা ফ্ল্যাটে ফিরলেই থমকে যান অভিনেতা। চার বছর হতে চলল স্ত্রী আর নেই। কিন্তু ঘরের কোণে কোণে আজও জড়িয়ে আছে প্রয়াত স্ত্রীয়ের স্মৃতি। সম্প্রতি একাকী জীবনের তীব্র যন্ত্রণা ও গভীর অনুভূতির কথাই জানালেন শঙ্কর বাবু।
অভিনেতা সকাতরে বলেন, “কাজের পরে রাত্রে বাড়ি ফিরি…তখন ভীষণ একা লাগে, নেই পাশে, খারাপ লাগে, ভীষণই একা লাগে।’ অনেকেই হয়ত জানেন না ক্যারিয়ারে শুরুর সেই চরম অনটন আর সংগ্রামের দিনে, যখন আট আনার ছাতু খেয়ে বা নাটক করে কোনোমতে অভিনেতার দিন চলত, তখন সোনালীই তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
নিজের কষ্টের উপার্জনের সবটুকু দিয়ে কিভাবে স্ত্রীয়ের কর্তব্য করেছিলেন সেই কথা বলতে গিয়েই শঙ্কর বাবু জানান, “সোনালী প্রচুর নাচের টিউশন করত, ও যা টাকা পেত সব আমাকে দিয়ে দিত। নিয়ে গিয়ে ভালো জামাপ্যান্ট সব কিনে দিত, ভালো সেলুনে নিয়ে যেত…সেখান থেকে সোনালী আমাকে ভদ্রলোক বানিয়েছে।”

আজ সব ঠিকমত চললেও মানুষটি আজ আর নেই। স্ত্রী চলে যাওয়ার পড়ে অভিনেতার জীবনে একাধিক আফসোস রয়ে গেছে। সোনালী ভীষণ ঘুরতে ভালোবাসতেন, কিন্তু স্ত্রীকে নিয়ে দেশ-বিদেশে না ঘুরে অযথা গাড়ির পেছনে প্রচুর টাকা নষ্ট করেছিলেন আজ সেই ভুল অভিনেতাকে ভেতরে ভেতরে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
জীবনের শেষবেলায় অসুস্থ শরীরে স্ত্রীর পুরী যাওয়ার আকুতিটাও অপূর্ণ থেকে যাওয়ার আফসোস নিয়ে অভিনেতা কেঁদে ফেলা গলায় বলেন, “খুব শরীর খারাপ, তখনও ভীষণ বলল ‘চলো না একটু পুরী যাই’আসলে আমি ওই টাকা নষ্ট করেছি প্রচুর। গাড়ি আমার একটা বাজে নেশা ছিল, ছ মাসে নতুন গাড়ি বেচে দিয়েছি… সেইটা আফসোস রয়ে গেছে যে ওকে নিয়ে অনেক ঘুরতে পারতাম, অনেক জায়গায় যেতে পারতাম, যাইনি।”
