
গ্ল্যামার জগৎ দূর থেকে যতটা ঝকঝকে দেখায়, ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারটা ঠিক ততটাই নির্মম। সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে গেল আরও এক জলজ্যান্ত প্রাণ। একসময় যাঁর রূপের জাদুতে বুঁদ ছিল আপামর দর্শক। যার অভিনয়ে মুগ্ধ ছিলেন হাজারো ভক্ত, সেই মানুষটিকেই জীবনের শেষ দিনগুলোতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে হয়েছিল ফুটপাতে শুয়ে, কাছের মানুষেরাই দূরে ঠেলেছিল তাঁকে। কারণ, তাঁর শরীরে বইছিল জটিল অসুখ এইচআইভি (HIV)। প্রয়াত সিনেমার আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিশা নূর।
তামিলনাড়ুর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নিশা নূরের সিনেমায় প্রবেশ ছিল কিছুটা আকস্মিকই। রজনীকান্ত, কমল হাসান এর মত দক্ষিণ ভারতের সেরা মেগাস্টারদের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি।
কিন্তু বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার প্রস্তাব কমে আসতে থাকে। আর এর সঙ্গেই শুরু হয় তাঁর জীবনের চরম বিপর্যয়। আর্থিক সঙ্কটে পড়ে সংসার চালাতে তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল। কঠিন সময়ে তাদের কাউকেই পাশে পাননি নিশা। এমনকী, নিজের পরিবারের তরফ থেকেও জুটেছিল চরম অবহেলা ও একাকীত্ব।
এই অসহায়তার সুযোগ নিয়েছিল তাঁরই চেনা জগতের কিছু মানুষ। জানা যায়, এক নামী চলচ্চিত্র প্রযোজকের ভালোবাসার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন নিশা। কিন্তু সেই সম্পর্ক ভালোবাসার ছিল না, ছিল চরম প্রতারণার। গুঞ্জন রয়েছে, সেই প্রযোজক নিশার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ও অর্থ আত্মসাৎ করে তাঁকে মাঝপথে ফেলে রেখে চলে যান। চরম অর্থকষ্টে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাঁকে নামতে হয়েছিল দেহ ব্যবসায়!
বহু বছর নিখোঁজ থাকার পর, তামিলনাড়ুর একটি দরগার পাশে, ধুলোবালি মাখা রাস্তার ফুটপাতে খুঁজে পাওয়া যায় নিশা কে। অপুষ্টি আর অবহেলায় তাঁর শরীর এতটাই শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিল যে, চেনার কোনও উপায় ছিল না। গায়ে পোকা মাকড় ঘুরে বেড়ানো সেই কঙ্কালসার নারীকে দেখে কেউ ভাবতেও পারেনি যে, ইনিই একসময়ের পর্দা কাঁপানো নিশা নূর।
অবশেষে একটি তামিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তিনি মারণব্যাধি এইচআইভি/এইডস -এ আক্রান্ত। তীব্র যন্ত্রণা আর নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করে ২০০৭ সালে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী।

