
মীর আফসার আলী, যিনি বদলে দিয়েছিলেন রেডিও সঞ্চালনার সংজ্ঞাটাই। রেডিও থেকে শুরু করে স্ট্যান্ড আপ কমেডি, সবক্ষেত্রেই তার প্রতিভার ছাপ পেয়েছে আপামর বাঙালি। তিনি নিজে যতটা লাইম লাইটে থাকেন, তার থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন তার পরিবার।
আজকের ‘গপ্পো মীরের ঠেক’-এর সেই মীর, কয়েক বছর আগের রেডিয়ো জকি এবং খাস খবরের সঞ্চালক সেই মীর আফসার আলির শুরুর পথটা কঠিন লড়াইয়ে ভরা ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে মীরের পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী ও কন্যা। অনেকেই হয়ত জানেন না মীরের স্ত্রী হিন্দু। নাম সোমা ভট্টাচার্য। মীর-পত্নী পেশায় একজন ডাক্তার। রেডিয়ো সুত্রেই আলাপ হয় তাদের দুজনের সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। আর তারপরেই প্রেম। কয়েকজন কাছের বন্ধু ও গুটিকয়েক পরিবারের মানুষজনদের নিয়ে খুব সাদামাটা ভাবেই বিয়ে সেরেছিলেন সোমা আর মীর। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে, নাম মুসকান।
বছর দুয়েক আগেই রেডিয়ো ছেড়েছেন মীর। যদিও নিজস্ব নতুন রেডিও চ্যানেল খুলেছেন তিনি। নাম হল গল্প মীরের ঠেক। শুধু তাই নয়, আজও সানডে সাসপেন্স দিয়ে আপামর বাঙালিকে ভরপুর বিনোদন দিয়ে মাতিয়ে রাখেন তিনি।
সম্প্রতি সায়নের জনপ্রিয় পডকাস্ট অকপট-এ এসে নিজের জীবনের সেই লড়াইয়ের গল্পটা বলে ফেললেন মীর। যে নিউজ বুলেটিনের হাত ধরেই বাঙালির ড্রয়িং রুমে পরিচিত হলেন মীর আফসার আলি। আর সেই সময় থেকেই কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের লড়াই শুরু তাঁর। কারণ, সবে তখন হিন্দু ঘরের মেয়ে মেডিক্যাল পড়ুয়া সোমা ভট্টাচার্যকে বিয়ে করেছেন মীর।
ভিন্নধর্মী বিয়ের কারণে তৎকালীন সমাজ তাঁদের খুব সহজভাবে মেনে নেয়নি। কোনও পারিবারিক সমর্থন না থাকায় নতুন সংসার পাততে আর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে দুজনকেই মারাত্মক লড়াই করতে হয়েছিল। মীর জানান, সেই দিনগুলোতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই সোমাকে একজন সফল ডাক্তার এবং তাঁকে একজন সফল এন্টারটেইনার হয়ে উঠতে হয়েছিল। আর তারপরই যেন গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায় তাঁদের, অন্তত মীর তেমনটিই মনে করেন।
জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় নিজের আদর্শ নিয়ে মীরের স্পষ্ট বক্তব্য—”আমি মন্দিরেও যাই না, মসজিদেও যাই না। রেডিও স্টুডিও বা কাজের জায়গাই আমার মন্দির-মসজিদ। কর্মই আমার ধর্ম, কর্মই আমার বর্ম। আমি আমার কাজকে এমন এক জায়গায় দাঁড় করাতে চাই যা অরাজনৈতিক, ধর্ম নিরপেক্ষ এবং সবার জন্য গ্রহণযোগ্য।”

