‘অসহ্য যন্ত্রণা, পেইনকিলার খেয়ে শুটিং, অবশেষে অস্ত্রোপচার’! ‘আমার মেয়েটার জন্যই আজ…এত কষ্ট…’, বললেন গায়িকা

গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়

বেশকিছু দিন আগে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়। হিপ জয়েন্টে র‌্যাপচার হয়। যার ফলে অনেক দিন ধরেই যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে ব্যথার ঔষধ খেয়েই সারেগামাপার শুটিং করেছেন।  শো করতে গিয়েও চোটের উপরে চোট লেগেছিল। তবে গায়িকাকে শেষমেশ অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে।

অস্ত্রোপচার এক মাস পর এবার সেই অভিজ্ঞতার কথাই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন গায়িকা। ফেসবুকে অস্ত্রোপচারের সময় কিছু ছবি আর নিজের মেয়ের সাথে ছবি শেয়ার করে জোজো লেখেন, “আজ আমি এমন কিছু ছবি শেয়ার করছি যা এতদিন ধরে শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। আজ আমার বড় অস্ত্রোপচারের এক মাস পূর্ণ হলো। গত ১৮ই মে, আমার ডাক্তার জে.বি.সি. (ড. জয়দীপ ব্যানার্জি চৌধুরী) আমাকে সেই তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছেন যা আমি গত ৬ মাস ধরে সহ্য করছিলাম; পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তখন আমাকে উচ্চ মাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে দিন কাটাতে হতো। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমি সেই সব মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে আমার পাশে ছিলেন এবং প্রতিনিয়ত মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন। এছাড়াও জে.বি.সি.এইচ. (J.B.C.H.) হাসপাতালের কর্মী, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং সেবাপ্রদানকারী—যারা আমার এত যত্ন নিয়েছেন—তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”

মেয়ে বাজো’র প্রসঙ্গে গায়িকা আরও লেখেন, “সত্যি বলতে, আমি ভেতর থেকে ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম, কিন্তু আমার মেয়ে ‘বাজো’-র কথা ভেবে আমি শক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। তাকে ছাড়া এই বড় ধাপটি পার করা সম্ভব হতো না; সে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই আমার পাশে ছিল। আমি জানি, মায়ের এত কষ্ট দেখা তার জন্য সহজ ছিল না, তবুও সে পাহাড়ের মতো অটল ছিল। অস্ত্রোপচারের পর সে ঠিক মায়ের মতো আমার সেবা-যত্ন করেছে। তাকে এবং আমার বাড়ির সাহায্যকারীদের—যারা আমাকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে সাধ্যের বাইরে গিয়েও চেষ্টা করেছেন—তাদের এমন ভূমিকা দেখাটা আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত ছিল। ঈশ্বর আপনাদের সবার মঙ্গল করুন।”