জেনে নিন বাংলাদেশের পদ্মা সেতু সমস্ত খবরাখবর

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক-রেল সেতু। যা বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপরে নির্মাণ হবে। পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে, যার সূচনা হয়েছিল ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে। পদ্মা নদী পারাপারের জন্য এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু এবং সড়ক সেতু। এটি লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর সঙ্গে সংযুক্ত করবে, যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে, উত্তর এবং পূর্ব অঞ্চলের সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে দেবে। এই সেতু বাংলাদেশের যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং শিল্পায়নে অনেকাংশ অবদান রাখবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প:

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়ন অধিনে পদ্মা সেতুর প্রোজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন অর্থাৎ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ- পশ্চিমের মানুষের বাংলাদেশে বিকাশের গতি প্রদান করার জন্য অন্যান্য দেশের অ্যাক্সেস পরিষেবা সরবরাহ উন্নত করা।

পদ্মা নদী বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্ব অঞ্চলগুলি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে। নদী পারাপারের জন্য সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা যাওয়ার দূরত্ব কম হবে। এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের খরচ ও ব্যয় কমবে। সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুনঃ ৩০ টি সাধারন জ্ঞান প্রশ্ন এবং উত্তর

পদ্মা সেতুর ডিজাইন এবং কাঠামোঃ

পদ্মা সেতুর ডিজাইন এবং কাঠামোঃ

source: https://www.instagram.com/p/B2RvRxsHSln/

সেতুটি প্রায় ৬.১৫ কিমি লম্বা এবং ১৮.১০ মিটার প্রশস্ত হবে। এটি একটি ডাবল ডেক সংমিশ্রিত ইস্পাত ট্রাস কাঠামো হবে। ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যর ৪১টি স্পান বসবে পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর আববাহিকায়। উপরের ডেকটিতে একটি চার-লেনের হাইওয়ে থাকবে এবং নীচের ডেকে রেললাইন,গ্যাস সংক্রমণ পাইপলাইন, অপটিক ফাইবার কেবল লাইন থাকবে। এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল এই সেতুর নকশাটি তৈরি করে।

আরও পড়ুনঃ বিভিন্ন ধরণের ফটো এডিটর অ্যাপের বিস্তারিত তথ্য

আর্থিক খরচঃ

আর্থিক খরচঃ

প্রথমে সরকার ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার আর্থিক খরচ অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প পাস করেছিল। তবে পরে আওয়ামী লীগ সরকার এর সঙ্গে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালে প্রথম দফায় এই সেতুর ব্যয় নির্ধারণ করে। সেই সময় এই সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পরে এই আর্থিক খরচ আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। সুতরাং পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে পাসপোর্ট চেক এবং আবেদন করবেন যেভাবে

পদ্মা সেতু তৈরি হওয়ার সুবিধাঃ

পদ্মা সেতু তৈরি হওয়ার সুবিধাঃ

এই সেতু তৈরি করার ফলে আশা করা যাছে সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হবে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে মানুষের যেসমস্ত সুবিধাগুলি হবে তা হল-

  1. পদ্মা বহুমুখী সেতুটি মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে পদ্মা নদীর উপর একটি নির্দিষ্ট সংযোগের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সংযোগ তৈরি করে দেবে সরাসরি। যার ফলে অর্থ সাশ্রয় হবে।
  2. এই সেতু নির্মাণ হওয়ার ফলে আগের তুলনায় কলকাতা এবং ঢাকার মধ্যে দূরত্ব কমবে। এবং যার ফলে দুই ক্ষেত্রের যোগাযোগ, বাণিজ্য আরও দ্রুত প্রসারিত হবে।
  3. যেহেতু এই সেতুটির হাইওয়ে সংযোগের বাইরে একটি রেলপথ থাকবে, তাই সমস্ত রকম জিনিসপত্র, পণ্যদ্রব্য এবং পরিবহন খুব দ্রুত এবং সহজ হয়ে উঠবে। সুতরাং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের তাদের অর্থনীতি বাড়িয়ে তুলতে এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে।
  4. প্রকল্পটি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিন ভালো হবে।

আরও পড়ুনঃ স্বচ্ছ ভারত অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজঃ

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজঃ
Source: https://www.instagram.com/p/BymPqNIHF4x/

সেতুর নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে। প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ করার সময়সীমা পরিবর্তন হয়েছে। সেতুটি সম্পন্ন করার শেষ সময়সীমা ছিল ডিসেম্বর ২০১৮। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর এক কিলোমিটারেরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। জানুয়ারী ২০১৯, পদ্মা সেতুর মোট কাজের ৭২% কাজ শেষ হয়েছে এবং পদ্মা সেতুর জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে বাকী কাজ শেষ হবে। সম্ভবত ২০২১ সালে পদ্মা সেতু চালু করা হবে।

আরও পড়ুনঃ অটল পেনশন যোজনা । Atal Pension Yojana বিস্তারিত তথ্য

চীন মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এর নির্মাণকাজ শেষ করতে দিনরাত কাজ করছে। সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নেই যখন নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং বাংলাদেশ সেতুর সুবিধা পেতে শুরু করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং দেশের যোগাযোগ ও উন্নয়নে অবদান রাখবে।

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা । Pradhan mantri Ujjwala Yojana বিস্তারিত তথ্য

সারকথাঃ

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রঃ পদ্মা সেতু বাংলাদেশের কোথায় নির্মাণ করা হচ্ছে?

উঃ পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর তৈরি করা হচ্ছে।

প্রঃ পদ্মা সেতুটি কি সড়ক এবং রেল উভয় চলাচল করবে?

উঃ হ্যাঁ, পদ্মা সেতুতে সড়ক পরিবহণ এবং রেল উভয় চলাচল করবে।

প্রঃ পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য কত আর্থিক বরাদ্দ হবে?

উঃ পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ করবে।

প্রঃ পদ্মা সেতু কবে থেকে চালু করা হবে?

উঃ আশা করা যাচ্ছে ২০২১ সালে থেকে চালু করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here