‘তথাগত আর আমার সম্পর্কটা… গত তিন বছর ধরে আমরা… আমি এখনও তথাগতকে…’, সাড়ে সাত বছরের বিবাহিত জীবনে প্রাক্তন স্বামী তথাগত কে নিয়ে মুখ খুললেন দেবলীনা

তথাগত মুখার্জি

একটা সময়ে টলিউডের জনপ্রিয় জুটি ছিলেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত ও তথাগত মুখার্জি। বছর তিনেক আগেই সংসারে ফাটল ধরে তাদের। তবে খাতায় কলমে আইনি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এমনটা নয়, কিন্তু ছাদ আলাদা হয়েছে তাদের। সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশের কারণেই মূলত আলাদা-আলাদা জীবনে হাঁটতে শুরু করেছেন দেবলীনা-তথাগত। এই কথা সকলেই জানেন। সম্প্রতি সাড়ে সাত বছরের বিবাহিত জীবনে প্রাক্তন স্বামী তথাগত কে নিয়ে মুখ খুললেন দেবলীনা।

‘আমরা বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করিনি। কিন্তু গত তিন বছর ধরে আমরা এক ছাদের নীচেও থাকি না। ফলে, সেই অর্থে আমাদের দাম্পত্য নেই। শীর্ষ আদালত যখন এক সম্পর্কে থাকাকালীন অন্য সম্পর্কের মান্যতা দেয় সেখানে আমি বলার কে? আমি প্রচণ্ড ভালবাসি তথাগতকে, এখনও। ওর ভাল থাকাটাই কাম্য। তাই আমি খুশি।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, “এই ভালোবাসাই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে দিয়েছে। এখনও আমাদের পোষ্য সন্তানের বিষয়ে আমাদের কাছেই ফোন আসে। এখনও সমাজমাধ্যমে তথার কোনও ছবিতে চোখের তলায় কালি দেখলে ফোন করে জানতে চাই, চোখের কোলে কালি কেন? তুই ভাল নেই? ওর এমন অনেক গোপন কথা জানি, যা আর কেউ জানে না। তথাগত মুখোপাধ্যায়কে এ ভাবেই আজীবন ভালবেসে যাব। এ ভাবেই আমার জীবনে আজীবন থেকে যাবে ও।”

দেবলীনার কথায়, ‘তথাগতকে ভালবাসার জন্য ওর সঙ্গে থাকার প্রয়োজন নেই। আমি কখনও চাইনি কেউ শুধু টিকে যাক আমার সঙ্গে আজীবন। আমি কখনও চাইনি এক বুক কষ্ট নিয়ে কেউ আমার সঙ্গে ভাল থাকার গল্প বলুক সবাইকে। আমি কখনও চাইনি কেউ বিরক্তি নিয়ে ঘামতে ঘামতে আমার জন্য রান্না করে হাসিমুখে দাঁড়াক দরজার সামনে। আমি কখনও চাইনি কেউ অভিমান লুকিয়ে আমার সঙ্গে পাহাড়ের ঢালে চুপ করে বসে থাকুক। আমি কখনও চাইনি কেউ আমাকে ভাল রাখার জন্য নিজের ভাল থাকাগুলো ছেড়ে দিক।’

দেবলীনা জানান, প্রেম কমলেও তাঁদের মধ্যকার আসল বন্ধুত্বটা কিন্তু হারিয়ে যায়নি। ‘বিচ্ছেদের পর এখন অবশ্য সাধারণ পাঁচটা বন্ধুর মতো কফি শপে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারার মতো বিষয়গুলো তথাগত আর আমার মধ্যে ঘটে না। তবে একে অপরের কাজের প্রতি সম্মান এবং জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার যে প্রকৃত বন্ধুত্ব তা আজও বজায় আছে।

বিয়ের বেশ কিছু বছর পর তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আরও একবার স্পষ্ট হলো অভিনেত্রীর কথায়।