করোনার পর বুবোনিক প্লেগ রুখতে বাড়তে সতর্কতা নিচ্ছে বেজিং

বুবোনিক প্লেগ 2

বুবোনিক প্লেগ 1

করোনার মতো আর ভুল করতে নারাজ বেজিং । আর ঠিক সেই কারণেই চিনস্থিত মঙ্গোলিয়ার একটি শহরে বুবোনিক প্লেগের একটি ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পরে বাড়তি সতর্কতা নিতে শুরু করেছে চিনা কর্তৃপক্ষ ।

মঙ্গোলিয়ার সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, বায়ান্নুর এলাকার আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় পশুপালক ।বর্তমানে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল ।

আরও পড়ুন : বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংখ্যা রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পাছে

চীনের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে সেদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন যে তারা দ্বিতীয় সন্দেহ জনক আক্রান্তের ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।বুবোনিক প্লেগ একটি সময় পৃথিবীর বুকে ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল । তবে এখনকার সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ সহজেই নিরাময় করা সম্ভব ।

শনিবার বায়ানুর শহরের উড়াদ মিডল ব্যানারের একটি হাসপাতালে বুবোনিক প্লেগে প্রতম আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় ।  তবে কীভাবে বা কেন রোগী সংক্রামিত হতে পারে তা এখনও স্পষ্ট হয় নি। দ্বিতীয় সন্দেহভাজনের বয়স ১৫ । গ্লোবাল টাইমসের একটি টুইট মরফত জানা গিয়েছে, একটি কুকুর দ্বারা শিকার করা মারমোটের সংস্পর্শে ছিল সে ।

আরও পড়ুন : COVID-19 রোগীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন

প্লেগের তৃতীয় স্তরের সতর্কতা অনুসারে, প্লেগের জীবানু বহনকারী প্রাণীদের শিকার ও খাওয়া একেবাবেই নিষিদ্ধ করা । পাশাপাশি সন্দেহজনক কেসগুলি রিপোর্ট করার জন্য জনসাধারণকে সচেতন করা ।

বুবোনিক প্লেগ কি ?

ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট বুবোনিক প্লেগ মানব জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক মহামারীর জন্য দায়ী ছিল । যা ইতিহাসের পাতায় কুখ্যাত ব্ল্যাক ডেথ বলে পরিচিত ।

প্লেগ মহামারির জেরে ১৪ শতকে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপ জুড়ে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।এরপরও বেশ কয়েকবার মানবজাতির ইতিহাসে বড় আকারের আঘাত হেনেছে এই মহামারী ।

আরও পড়ুন : COVID-19 ভ্যাকসিন পরীক্ষার সময়সীমা আটকেছে ভারতের গবেষণা সংস্থা

১৬৬৫ সালের মহামারী চলাকালীন লন্ডনের জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল বুবোনিক প্লেগ । ১৯শতকে চীন ও ভারতে ১২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল । বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা প্লেগের চিকিৎসা করা সম্ভব ।

চিকিৎসা না করা অবস্থায়, এতে সংক্রামিত হয়ে মৃত্যুর হার ৩০-৬০শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে । রোগের প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এবং ঘাড়ে ফোলা লিম্ফ নোড ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here