
একটা সময় টেলিভিশন থেকে সিনেমা, পর্দায় চুটিয়ে কাজ করলেও এখব আর সেভাবে দেখা মেলে না অনুশ্রী দাসের। ব্যক্তিগত জীবনে টলিউড অভিনেতা ভরত কলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেও সেই সম্পর্ক টেকেনি বেশিদিন। তবে ভরত কলের সঙ্গে বিয়ের আগেও অনুশ্রীর মনের মনের মানুষ ছিলেন অন্য কেউ। সম্প্রতি নিবেদিতা অনলাইনের পডকাস্টে নিজের অতীত জীবন ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
এনটি ১ (NT1) স্টুডিওতে ‘উজান’ ছবির কাজের সূত্রপাত হয়েছিল সেই মানুষটির সঙ্গে, তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছেন ১৯ বছর আগে, তবে স্মৃতি আজও অমলিন। অনুশ্রী, ‘জানান, ও আজ নেই। কোনও খারাপ কথা ওকে নিয়ে বলব না’। অভিনেত্রীর মনের মানুষ হলেন অভিনেতা শিলাদিত্য পত্রনবিশ। ২০০৮ সালে মারাত্মক কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালেই মারা যান অভিনেতা।
যদিও অনুশ্রী পরে জানতে পারেন, শিলাদিত্য বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা। ফলে মনের অনুভূতি কোনো দিন প্রকাশ করেননি অনুশ্রী। শিলাদিত্যকে বিয়ে করার ভাবনাও তাঁর ছিল না। অথচ ইন্ডাস্ট্রির নানা চড়াই-উতরাই ও সম্পর্কের টানাপোড়েনে শিলাদিত্যর সবচেয়ে কাছের বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন তিনি। নিজের জীবনের প্রতিটি গোপন কথাই অনুশ্রীর কাছে নির্দ্বিধায় ভাগ করে নিতেন প্রয়াত এই অভিনেতা।
অনুশ্রী জানান, ‘দুই পরিবারের মধ্যে কোনও একটা সমস্যা ছিল, সেটা নিয়েই স্ত্রীর সঙ্গে ওর ঝামেলা। আমি আসলে কোনওদিন জানতে চাইনি’। সম্পর্কে তিক্ততা ছিল মানেই তাঁর স্ত্রী খারাপ, এই লজিকে বিশ্বাসী ছিলেন না অনুশ্রী।
অনুশ্রী তখনও নবীন। শ্যুটিং সেরে পায়ে আলতা মেখে সেটে উপস্থিত হওয়ার পর প্রযোজকের ব্যবহারে অস্বস্তি বোধ করায় ছবিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু ছবির নায়ক শিলাদিত্য পত্রনবিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, কাজটা তুমিই করবে।’ সেখান থেকেই শিলাদিত্যর প্রতি এক ধরনের গভীর ভালো লাগার সূচনা।

