
জন্মের পর থেকেই মেয়ের মুসলিম নাম নিয়ে কম বিতর্ক শুন্তে হয়নি সুদীপ্তাকে। তবে এবার মা হিসেবে অভিনেত্রীর আজ বড় গর্বের দিন। মায়ের মত মেকআপের দুনিয়া কিংবা গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে নয়, বরং খেলার মাঠে নিজের কৃতিত্বে বাংলার নাম উজ্জ্বল করল ছোট্ট মেয়ে শাহিদা নীরা। এত অল্প বয়সে মেয়ের এই সাফল্যে আত্মহারা মা সুদীপ্তা।
আগামী ২৯ থেকে ৩১ মে গোয়ার পাঞ্জিমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘৯ম জাতীয় ফিনসুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। আর সেই জাতীয় স্তরের মঞ্চেই পশ্চিমবঙ্গের হয়ে জলের তলায় ফাইটিং লড়বে শাহিদা। জীবনের প্রথম আন্ডার-ওয়াটার কম্পিটিশনেই এক ধাক্কায় রাজ্য দলে সুযোগ পেয়ে যাওয়াটা যে মুখের কথা নয়, তাও জানালেন সুদীপ্তা।
মেয়ের গায়ে ‘বেঙ্গল’ লেখা টি-শার্টের ছবি পোস্ট করে সুদীপ্তা জানান, এই জার্সির পেছনে রয়েছে গত ৫ মাসের কঠোর পরিশ্রম ও কঠিন নিয়মানুবর্তিতা। শাহিদা প্রতিদিন নিয়ম করে ৩ ঘণ্টা জলের তলায় অনুশীলন করেছে। শুধু তাই নয়, যখন সমবয়সী বাকি বাচ্চারা উইকএন্ডে বা ছুটির দিনে খেলায় মেতে থাকত, তখন শাহিদা শনি ও রবিবার টানা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা কঠোর ট্রেনিং করত।
মেয়ের এই কঠিন লড়াইয়ে মা সুদীপ্তা যেমন সবসময় মেয়ের পাশে থেকেছেন, তেমনই শাহিদার এই সাফল্যে অন্যতম ভাগিদার তার বাবা। অভিনেত্রীর কথায়, শাহিদার বাবার অদম্য জেদ, মানসিক সমর্থন এবং প্রতিনিয়ত মেয়ের সঙ্গে থেকে সমস্ত কিছু তদারকি করার ফলেই আজ শাহিদা সিলেকশন টেস্ট বা যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষায় ছক্কা হাঁকাতে পেরেছে।
মেয়ের এই নতুন জার্নিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে সুদীপ্তা লিখেছেন, ‘গো বেবি! জলের তলার এক নতুন পৃথিবী অন্বেষণ করো। আমরা সবাই আমাদের আঙুল ক্রস করে রাখলাম’।
সুদীপ্তা আরও জানান, শাহিদার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছেন তাঁর দুই কোচ কানাই স্যার এবং শঙ্কর স্যারের অনবরত অনুপ্রেরণা এবং সঠিক গাইডেন্স। তা নাহলে শাহিদার এই যোগ্যতা অর্জন করা অসম্ভব ছিল। পাশাপাশি শাহিদার সাঁতারের ক্লাব ‘আইএলএসএস’ (ILSS)-এর বিপুল সহযোগিতা শাহিদাকে নিজের সেরাটা দিতে সাহায্য করেছে।
