
টেলিভিশনের পর্দায় অন্যতম একজন দাপুটে অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। অভিনয় জীবনে একের পর এক সফলতা পেলেও অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে বৈবাহিক সম্পর্কের যন্ত্রনাময় কাহানী হয়ত অনেকেরই অজানা। বিয়ের পরেই বদলে যায় পরিস্থিতি। সম্প্রতি নিজের দাম্পত্যজীবনের অজানা অধ্যায় নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
অভিনেত্রীর কথা অনুযায়ী, অভিনেতা বোধিসত্ত্ব মজুমদারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু হয়েছিল নাটকের মঞ্চ থেকেই। সাতের দশকের শেষদিকে রামমোহন লাইব্রেরিতে একটি নাটকের সময় তাঁদের পরিচয়। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, পরে প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে। অনামিকার দাবি, বিয়ের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। শ্বশুরবাড়িতে তাঁর গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষ। দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল অহংকার ও ইগোর টানাপোড়েনও। ‘বিয়ের পর ছ’বছর আমি অভিনয় করিনি। শাশুড়ি তো আমায় প্রথম দেখে কেঁদেই ফেলেছিলেন। কারণ, আমার গায়ের রং কালো। মেয়ে হওয়ার পর আবার কাজ শুরু করি আমি। তখন আমার স্বামীও খুব বেশি কাজ করতেন না। চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে সংসার টানার জন্য যে কাজ করতে হয়েছে তেমনটা নয়। কিন্তু মেয়ে হয়েছে। তার তো কিছু খরচ ছিল, সেই জন্য আবারও থিয়েটার শুরু করি। আমার পদবির জন্যও খুব সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে।’
অভিনেত্রীর আরও দাবি, বোধিসত্ত্ব নিজেকে তাঁর তুলনায় কিছুটা উচ্চতর মনে করতেন। নিজের চেহারা নিয়েও তাঁর মধ্যে অহংকার ছিল বলে জানিয়েছেন অনামিকা। এমনকি নাটকের মঞ্চে দু’জনের অভিনয়ের প্রশংসা নিয়েও নাকি আপত্তি ছিল তাঁর স্বামীর।
অভিনেত্রীর দাবি, গায়ের রং নিয়ে সেই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই নাকি স্বামী-স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কোনও রিয়্যালিটি শোয়ে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেত না। পর্দায় অনামিকাকে অধিকাংশ সময় নেগেটিভ চরিত্রে এবং বোধিসত্ত্বকে পজিটিভ চরিত্রে দেখা যাওয়ায় অনেক দর্শক তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও জানতেন না।
স্বামী-স্ত্রী এখনও একই সংসারে থাকলেও পুরনো দূরত্ব পুরোপুরি মুছে গিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অনামিকার বক্তব্যেই কিছুটা ধোঁয়াশা থেকে যায়। বর্তমানে তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছেন। মেয়ের উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিদেশে চাকরি করার কথাও জানিয়েছেন অনামিকা। সুযোগ পেলেই মেয়ের কাছে যান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
