
অভিনেত্রী হিসেবে যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ সেই জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যায়, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু, হুগলির সাংসাদ হিসেবে রাজনীতির ময়দানে মোটেই ফুল মার্কস পাননি তিনি। মাত্র ২ দিনের নোটিশে দিদি নম্বর ১ ছাড়ার পর থেকেই অভিনেত্রীর নানা কথায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের সামনেই রচনাকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছিল, দিদি নম্বর ওয়ান’ও এখন অতীত। বাড়িতে দুধওয়ালা আর কাগজওয়ালা ছাড়া তো আর কেউ আসবে না। এরপরেই আরবানায় থাকা নিয়ে রচনা মন্তব্য চূড়ান্ত ভাইরাল হয় এবং বিতর্কে তৈরি করে৷ রচনা বলেছিলেন যে আরবানায় থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে৷ কী সেই যোগ্যতা, কীসের মাপকাঠিতে আরবানায় থাকা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে৷
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে প্রচুর কাদা ছোড়াছুড়ি হয়৷ সেই সময় মাথা শান্ত রেখে অভিনেত্রী কোনও কথার উত্তর দেননি৷ এতদিন পর এই নিয়ে মুখ খুললেন রচনা৷ তিনি জানিয়ে দিলেন কেন আরবানা থাকার প্রসঙ্গ তিনি তুলেছিলেন।
রচনার কথায়, আমি কোনও দিন, কখনও নিজের সম্পর্কে বড়াই করিনি৷ আমি কী করেছি, কী করেছি না, সেই কথাও কোনও দিন বলিনি৷ তবে এক সাংসদ প্রশ্ন তুলেছিলেন, এবং ব্যাঙ্গ করে বলেন যে থাকেন তো আরবানাতে, ক’জন লোক আসেন দেখা করতে? এই কথা শুনেই আমি মুখ খুলি৷ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, আমাকে যদি কোণঠাসা করা হয়, এমন কথা বলা হয়, যা বলা উচিৎ নয়, তাহলে আমি তার প্রতিবাদ করব৷ এবং সেই কারণেই সেই সময় তাঁকে ব্যাঙ্গ করার প্রতিবাদ করেছিলেন৷
রচনা আরও বলেন যে তিনি ছোট থেকে অনেক লড়াই করে বড় হয়েছেন৷ ফলে তাঁর কাছে আরবানার মতো দামি ফ্ল্যাট কেনা এক বড় স্বপ্নপূরণের সমান৷ তিনি সবসময় চাইতেন যে তাঁর বাবা ও মাকে নিজের টাকায় ফ্ল্যাট কিনে তাঁর সঙ্গে রাখতে পারেন৷ মেয়ে হিসেবে সেই কাজ তিনি করেছেন৷ এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়েছে তাঁকে এবং এর জন্য প্রচুর পরিশ্রমও করতে হয়েছে৷ গত ২০ বছর অনেকটা খেটেছেন বলে এই সাফল্য তিনি পেয়েছেন, বলছেন আত্মবিশ্বাসী রচনা৷ একই সঙ্গে তিনি বলেন যে তাঁর যারা প্রকৃত বন্ধু বা কাছে মানুষ, তাঁরা কেউ তাঁকে এই বিতর্কের সময় কাঠগোড়ায় তোলেননি এবং বলেননি যে অভিনেত্রী ভুল করেছেন৷
