‘ওপরটা ভদ্র দেখে মানুষকে বিশ্বাস করবেন না দয়া করে…বিশ্বাস করে এতটাই ঠেকেছি…’, বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

সংসারটা ধরে রাখার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, একটু ধৈর্য, একটু মানিয়ে নেওয়া আর সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হয়তো সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু সম্পর্ককে যতই আঁকড়ে ধরা হোক, একসময় অনুভূতি হয়, সেখানে থেকে যাওয়া মানেই নিজের ভেতরটাকে প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে ফেলা।

খুব অল্প বয়সে বিয়ে করে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসার, স্বামী আর সন্তানকে ঘিরেই ছিল তাঁর ছোট্ট পৃথিবী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক হয়ে উঠল অসহ্যকর। দিনের পর দিন নিজের কষ্ট চেপে রেখে শুধু সন্তানের কথা ভেবেই সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

চোখের সামনে স্বামীর দিনের পর দিন পরকীয়া এবং সেই যন্ত্রণা চোখের সামনে সহ্য করতে হয়েছিল তাকে। একসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। মেয়ের কথা ভেবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও একসময় পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাল যখন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সেই সংসার ছেড়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

সংসার ছেড়ে আসার সময় সামনে ছিল অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চা’প এবং সমাজের নানান প্রশ্ন। কিন্তু তার মায়ের কথা তাকে সাহস জুগিয়েছে। মা তাকে বুঝিয়েছিল, যেভাবেই হোক এই অসু’স্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে হবে। সেই বিশ্বাসের সাথেই মেয়ের সাথে একা পথচলা শুরু করেন মল্লিকা।।

দ্বিতীয় বিয়ের করে এখন তিনি সুখে সংসার করছেন। বিয়ের দেড় বছর পর অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান,”কোনো মানুষকে উপর থেকে ভদ্র দেখেই বিশ্বাস করবেন দয়া করে, আমি বিশ্বাস করে ঠকছি।” এই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজের মেয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কথা ভাগ করে নিয়েছেন।

অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সেই কঠিন সময়ে মল্লিকার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল মেয়েকে নিরাপদ এবং সুস্থ পরিবেশে বড় করে তোলা। কিন্তু সমাজের কোন চোখরাঙানি কোনও কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। মেয়ের জন্য তাকে মা আর বাবা দুই ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। যে সন্তানকে একদিন তিনি একা হাতে আগলে রেখেছিলেন, বড় হয়ে সেই সন্তানই মায়ের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে। সেই মেয়েই আজ মায়ের মন খারাপ বুঝতে পারে, কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায়, এমনকি মায়ের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও অভিভাবকের মতো সাহস জোগায়।

২০২৫ সালে মল্লিকার জীবনে নতুন করে সংসার পাতার সময়ও মেয়েই বিয়েতে যাবতীয় দায়িত্ব সামলেছে। মেয়েই এখন তার অভিভাবক। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছিল, শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের আত্মসম্মান বা সন্তানের মানসিক শান্তিকে বিসর্জন দেওয়া যায় না। সেই অন্ধকার অতীত থেকে বেরিয়ে আজ মেয়ে আর দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে সুখে রয়েছেন মল্লিকা।