
বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। এই মুহুর্তে কুসুম ধারাবাহিকে দেবীমা চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে। দর্শকের চোখে অভিনেত্রীর জীবনটা ঝলমলে মনে হলেও অঞ্জনার ব্যক্তিগত জীবনের ভয়ানক মুহুর্তের কথা অনেকেই হয়ত জানেন না। অভিনয়ের পাশাপাশি সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সমানভাবে সামলাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন অভিনেত্রী। অঞ্জনা জানান, একটা সময় ছেলের ভবিষ্যতের জন্য কাজের প্রয়োজনে পাটনা থেকে কলকাতায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন তিনি। প্রায় ১০ ঘন্টার যাত্রা পেরিয়ে কলকাতায় এসে শুটিং করে আবার রাতের ট্রেনে পাটনায় ফিরতেন। কখনও দু’তিন দিন টানা শুটিং থাকলে কলকাতায় আত্মীয় কিংবা বন্ধুর বাড়িতে থেকে যেতেন।
কিন্তু একবার আচমকাই শুটিংয়ের খবর আসে। এদিকে হাতে কোন ট্রেনের টিকিট নেই, অথচ সময়মত কলকাতায় পৌঁছাতেই হবে। বাধ্য হয়ে ভোর ৫ টায় পাটনা থেকে লোকাল ট্রেনে রওনা দেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ এই সফরের শেষে রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা নাগাদ লিলুয়ায় পৌঁছান তিনি। এরপরেই ঘটে অঘটন।
রাত সাড়ে ১২ তার পর হাওড়া পৌঁছালে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার মত কোন যান পাওয়া কঠিন হবে তা আগে থেকেই আন্দাজ করেন অঞ্জনা। তাই লিলুয়া স্টেশনে নামার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই স্টেশনে ট্রেন থামার কোন সুযোগই ছিল না। সেই সময় উপায় খুজে না পেয়ে স্টেশনের কাছে ট্রেন আসতেই নিজের মালপত্র নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে ঝাঁপ দেন অঞ্জনা। সেদিন বড় অঘটন ঘটতে পারত তবুও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দেন তিনি।
অঞ্জনার কথায়, এই সমস্ত কষ্টের পিছনে উদ্দেশ্য একটাই ছিল ছেলের ভবিষ্যৎ যেন ভালো হয়, তাকে যেন নিজের পায়ে দাঁড় করাতে পারেন। আজ ছেলের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে সেই পুরনো দিনের কষ্টকে আর আফসোস বলে মনে হয় না।
