‘রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে ফেলে… মুখ ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে… অ্যাসিড আনে আমাকে মারবে বলে…’, বাড়ির পরিচারিকাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ অভিনেতা সম্রাট মুখার্জির বিরুদ্ধে

সম্রাট মুখোপাধ্যায়

পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতার চেনা মেজাজ ছাপিয়ে বাস্তবে আলোচনার শিরোনামে অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়। গৃহ পরিচারিকাকে মারধর ও অত্যাচারের অভিযোগ উঠল অভিনেতার বিরুদ্ধে। সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ি থেকে একটি আংটি নিখোঁজ হওয়ার পর চুরির অভিযোগ তুলে, ওই মহিলাকে একটি ঘরের ভেতর আটকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করা হয়। এরপর নাকি জোরপূর্বক তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কোনও কিছুই উদ্ধার না হওয়ায়, অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এরপর নাকি বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে অ্যাসিড এবং লাঠি নিয়ে আসার নির্দেশ দেন সম্রাট। সেই লাঠি নিয়ে ওই পরিচারিকার ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত অভিনেতা। নৃশংস আঘাতে মহিলার মাথা ফেটে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে কানে ও মাথায় বুট দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়া হয় এবং বুকে, পিঠে, পেটে অনবরত লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। দেওয়ালে ওঁর কপাল সজোরে ঠুকে দেওয়া হয়, যার ফলে কপাল ফুলে রক্ত জমে যায়। নিজেকে বাঁচানোর জন্য এই মহিলা যখন হাত দিয়ে লাঠিটি ধরার চেষ্টা করেন, তখন লাঠির প্রচণ্ড আঘাতে ওঁর হাতের আঙুলগুলোতেও গুরুতর চোট লাগে এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

এরপর, মুখ ও শরীর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয়। রাতেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে হরিদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পাল্টা জবাব দিলেন অভিনেতা। সম্রাটের দাবি, ২৭ মে সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতের হীরের আংটি ২ টি খুলে স্নানে গিয়েছিলেন৷ এরপর তাড়াহুড়োয় নাটকের রিহার্সালে চলে যান৷ বেরিয়ে গিয়ে আংটির কথা মনে পড়লে দারোয়ানকে বলেন৷ দারোয়ান গিয়ে দেখেন মহিলাটি ঘর পরিস্কার করছেন৷

সম্রাট বলেন, দারোয়ান জানতে চায়, আংটি দেখেছে কি না মহিলাটি৷ তিনি দেখেননি জানান৷ তখন দারোয়ান নিজেই খুঁজতে থাকেন৷ বিছানায় প্রথমে কিছুই পায়নি। দু’মিনিটের মধ্যেই বিছানায় একটা আংটি খুঁজে পান দারোয়ান৷ তখন আর একটা আংটি কোথায় দারোয়ান প্রশ্ন করেন৷ মহিলা বলেন, আমি জানি না।”

সম্রাটের দাবি, বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন পরিচারিকা জোর জবরদস্তি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আংটি চুরির কথা অস্বীকার করে তিনি বারবার বলতে থাকেন, “আমি এখনই বেরিয়ে যাব।” পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্রাট সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশ না আসা পর্যন্ত তাঁকে যেতে দেওয়া হবে না।

“আমি এফআইআর করার পরেই উনি একদল লোকজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে যান। আসলে চোরের মায়ের বড় গলা! পালানোর জন্য উনি যখন পাগলের মতো দৌড়াদৌড়ি করছিলেন, তখন সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পা পিছলে লোহার রেলিঙে ওঁর কপালে চোট লাগে। আমরা মারলে তো পুলিশ দেখতে পেত। পুলিশ আসার পরেই তো ওঁকে ছাড়া হয়েছে।”

চলতি মাসেই সম্রাটের শাশুড়ির একটি সোনার হার চুরি গিয়েছিল বলে দাবি অভিনেতার। কিন্তু সেবার উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তিনি পুলিশে যাননি, শুধু বাড়ির সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু এবার পরপর এমন ঘটনায় সন্দেহ তীব্র হয়।

হারানো আংটিটি এখনও উদ্ধার হয়নি। আক্ষেপের সুরে সম্রাট জানান, আংটিটি ওঁর অত্যন্ত শখের ও মূল্যবান ছিল। তাই হাতজোড় করে পরিচারিকাকে বলেছিলেন, নিয়ে থাকলে ফেরত দিয়ে দিতে, পুলিশে দেওয়া হবে না। কিন্তু সম্রাটের মতে— ওনারা ভাবেন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একজন অভিনেতাকে হেনস্থা করা খুব সহজ। ভয় দেখিয়ে যাতে এফআইআর তুলে নেওয়া যায়, সেই কারণেই পরিচারিকা এই মনগড়া মিথ্যে মারধরের গল্প ফাঁদছেন।