
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের ঘটনা। আজ, শুক্রবার সকাল হতেই সব শেষ। সোশাল মিডিয়া খুললেই যাঁর হাসিমুখ আর আদরের পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’-র ভিডিয়ো মন ভালো করে দিত লাখো মানুষের, সেই প্রাণবন্ত তরুণী সায়নী চক্রবর্তী আর নেই। যে মেয়েটি সমাজমাধ্যমে প্রতিদিন একরাশ ইতিবাচক বার্তা ছড়াতেন, তাঁর নিজের জীবনের আলোই যে এভাবে নিভে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। সায়নীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। ছবি হোক বা ভিডিও মুখে সবসময় থাকত হাসি। আচমকা কি এমন ঘটল তার জীবনে? আত্মহত্যা নাকি রহস্যমৃত্যু।
সমাজমাধ্যমে পরিচিত ছিলেন গরুদের নিয়ে ভিডিও বানানোর জন্য৷ সুন্দরী নামের গরুকে কেন্দ্র করে মজার ভিডিও বানাতেন সায়নী৷ যদিও ফেসবুক পেজে নিত্যদিনের সাজপোশাক, ছোট ছোট গল্প সবই শেয়ার করতেন সায়নী। বাস্তব জীবনে ঈশ্বরের সেবা করতেন পশুপ্রেমের মাধ্যমে। ২৪ ঘণ্টা আগেও পোষ্য গরু সুন্দরী-কে নিয়ে ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন সায়নী। মা মলি চক্রবর্তীও সুন্দরী নামক গরুকে নিয়ে ভিডিও বানানোর জন্য জনপ্রিয়৷ কিন্তু কী এমন হল?
মগরার বাসিন্দা সায়নী সদ্য আইন নিয়ে স্নাতক পাশ করেছেন। খবর পাওয়া গিয়েছে, প্রেমঘটিত সমস্যা থেকেই নাকি চরম সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পুলিশ সুত্রে খবর গতকাল বাড়িতেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এই তরুণী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নিথর দেহ। সায়নীর এই আকস্মিক এবং অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আপাতত মগরা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবড়া হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। সায়নীর নিথর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলেও এখনও সেই রিপোর্ট এসে পৌঁছায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা সব দিক থেকে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে খবর। সেই সম্পর্কে টানাপড়েনের কারণেই নাকি চরম সিদ্ধান্ত নেন। তবে সায়নীর কাছ থেকে কোন সুসাইড নোট পাওয়া যায়নি।
