
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম চলচ্চিত্র জুটি হলেন দীপঙ্কর দে আর দোলন রায়। দোলনই প্রথম স্ত্রী নন, দীপঙ্করের প্রথম স্ত্রী ছিলেন একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মহিলা এবং তাঁদের দুটি কন্যা সন্তান ছিল। ডিভোর্সের পর, দোলনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এরপর ২২ বছর লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার পর, ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁদের বিয়ে হয়।
প্রথম স্ত্রীয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও দুই মেয়ের সঙ্গে কখনই সম্পর্ক নষ্ট হয়নি দীপঙ্করের। ৭৯ বছর বয়সে এসে বড় মেয়েকে চোখের সামনে চলে যেতে দেখে ভেঙে পরেন অভিনেতা। বাবা মায়ের সামনে সন্তানের মৃত্যু! এই শোক যেন মেনে নেওয়া যায় না। ৫২ বছর বয়সে কিডনি এবং হার্টের সমস্যা নিয়েই ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু আর বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু হয় দীপঙ্কর দে-র বড় মেয়ে বৈশালী কুরিয়াকোসের। ২০২৩ সালে প্রয়াত হন অভিনেতার বড় মেয়ে।
দীপঙ্করের ঘর ভাঙার জন্য বারংবার দায়ী করা হয়েছে দোলনকে। তবু সত্বেও সন্তান হারানোর পরে অভিনেতা যখন ভেঙে পড়েন তখন হাসপাতালে দীপঙ্কর ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আগলে রেখেছিলেন দোলনই। সব কিছু পালন করেছিলেন নির্দ্বিধায়।
সেইসময় দোলন জানিয়েছিলেন, “দীপঙ্করের বড় মেয়ে টিটির মৃত্যুর পর তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হাসপাতালে। আমাদের মধ্যে কিন্তু কোনওই তিক্ততা নেই। এর আসল কারণ, আমি তাঁর সংসার ভাঙিনি। দীপঙ্করের সঙ্গে তাঁর ডিভোর্সের পর আমি আসি। ফলে আমাকে নিয়ে কোনওকালেই তাঁর মনে কোনও ক্ষোভ নেই। টিটির মৃত্যুর সময় দুই বয়স্ক বাবা-মাকে (দীপঙ্কর এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী) আমিই আগলেছিলাম হাসপাতালে। দু’জনের জন্যেই ওষুধ আনিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কন্যা হারানোর শোকে তাঁদের কারওই শারীরিক ক্ষতি না হয়।”
