১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

দোরগড়ায় কড়া নাড়ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রত্যেকটি দিন ভালোবাসার দিন হলেও এই দিন ভালোবাসার মানুষদের কাছে বরাবরই স্পেশাল। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তার প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার বার্তা প্রেরণ করে। প্রেমিক বা প্রেমিকাদের জন্য ভ্যালেন্টাইন’স ডে একটি আকাঙ্ক্ষিত দিবস। কিন্তু কেন এই দিনটিকেই বিশ্ব ভালোবাসার দিবস বলা হয়। কেমন ভাবেই পালন করা হয় দিনটি? আজ বলব তারই কিছু কাহিনী। তাহলে চলুন জেনে নিই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ইতিহাস এবং তার বিস্তারিত তথ্য।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

সূত্র :- valentinesdayweek . com

 

১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

ভ্যালেন্টাইন’স ডে শুধু মাত্র প্রেমিক বা প্রেমিকাদের জন্যই নয় বরং প্রত্যেকটি মানুষের কাছে তার পরিবারের প্রিয় মানুষটির ভালোবাসার দিন। এই দিনটি পালনে তরুণ তরুণীরা মেতে ওঠেন। এই দিনটিকে ঘিরে থাকে বসন্তের বাড়তি ছোঁয়া। কিন্তু এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এর পিছনে রয়েছে বিশেষ কাহিনী।

সুপারিশ নিবন্ধন :- 

১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে কেন পালন করা হয়

সূত্র :- braverytruth . com

১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে কেন পালন করা হয় ?

ভ্যালেন্টাইন’স ডে এর কাহিনী শুরু হয় ২৬৯ খ্রিষ্ট গোরার দিকে। এই সময় ইউরোপের রোমের রাজা ছিলেন ক্লোরিয়াস। তিনি একজন নিষ্ঠুর রাজা ছিলেন। তিনি খুব দ্রুত তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। তিনি পুরুষদের বিবাহে অমত ছিলেন। কারণ তিনি ভাবতেন বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় অবিবাহিত পুরুষরা বেশি ক্ষমতাশালী। তাই তিনি তার সাম্রাজ্যে নির্দেশ দেন যুবকদের অবিবাহিত থাকার জন্য। তার এই ঘোষণায় সাম্রাজ্যবাসী হতাশ হন।

সেই রাজ্যেই একজন খৃষ্টান বাস করতেন যার নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। রোমের রাজার এই নিষ্ঠুর নির্দেশ সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর পছন্দ হয় নি। তিনি রাজার বিপক্ষে গিয়ে সেই রাজ্যর যুবকদের বিয়ের জন্য উৎসাহিত করত এবং লড়াই করার সাহস দেখাতো। এই কথা রাজার শুনতে পেয়ে তাকে বন্দি করে আনেন এবং সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন যে কারাগারে বন্দি ছিল সেই কারাগারের জেলার জানতেন ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক শক্তির কথা। তাই জেলার তার অন্ধ মেয়ের কথা বললেন এবং বললেন ঈশ্বরের কাছে তার মেয়ের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য প্রার্থনা করতে। জেলারের কথায় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন এবং মেয়েটি কিছুদিনের মধ্যে তার দৃষ্টি ফিরে পায়।

দৃষ্টি ফিরে আসার পর মেয়েটি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। প্রথম আলাপে তাদের একে অপরকে ভালো লাগে এবং সেখান থেকে তাদের প্রেমের কাহিনীর সূত্রপাত হয়। কিছুদিন পর ভ্যালেন্টাইন সেই মেয়েটিকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই বিবাহ প্রস্তাবের খবর রোমের রাজার কানে পৌঁছে যায়।

প্রথমের রাজা ক্লোরিয়াস সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে বিবাহ না করার পরামর্শ দেন কিন্তু ভ্যালেন্টাইন তার কথা অমান্য করে। যার ফলস্বরূপ রাজা তার ফাঁসির নির্দেশ দেন। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন তার ফাঁসির খবর শোনা মাত্র তার প্রেমিকার জন্য একটি চিঠি (প্রেম পত্র) লেখেন।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের এই প্রেম পত্রের উপর লেখা ছিল ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন এবং সেই শতাব্দীর ১৪ ই ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এর জন্য সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের কাহিনী থেকে তাকে স্বরনীয় করে রাখার জন্য ১৪ ই ফেব্রুয়ারি দিনটি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। তাই আজও প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রেম পত্রের উপর বা কার্ডের উপর ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন কথাটি লেখা থাকে।

ভ্যালেন্টাইন’স ডে কীভাবে পালন করা হয়

সূত্র :- timeanddate . com

ভ্যালেন্টাইন’স ডে কীভাবে পালন করা হয় ?

দিনটি বিশেষত তরুণ তরুণীরা তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য পালন করে থাকে। সেই দিন বিশেষ আকর্ষণ লাল গোলাপ ভালবাসার প্রতীক চিহ্ন। প্রেমিক তার প্রেমিকা অথবা প্রেমিকা তার প্রেমিককে লাল গোলাপ দিয়ে ভালোবাসার শুভেচ্ছা জানায়। ১৪ ই ফেব্রুয়ারি আগে পুরো সপ্তাহ রোজ ডে, প্রপোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিস ডে, হাগ ডে, কিস ডে হিসাবে পরিচিত। গোটা সপ্তাহটাই ভালোবাসার দিবস বলা যায়।
পার্কে ঘোরা, সিনেমা দেখা, খাওয়া – দাওয়া, একে অপরকে গিফট এবং লাল গোলাপ বিতরণের মধ্যে দিয়ে পালন করা হয় হয় এই দিনটি এবং ছড়িয়ে দেওয়া হয় ভালোবাসার রঙ।

সারকথাঃ
ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনও দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি মুহূর্তই ভালোবাসার দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here