
গানের জগতে ফের শোকের ছায়া। অসংখ্য শ্রোতাকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন জনপ্রিয় গায়িকা। সারা বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন এক আইকনিক কণ্ঠস্বর। ৪৮ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে যাঁর সুমধুর কণ্ঠ মন ছুঁয়েছিল গোটা দুনিয়ার। আজ চিরতরে স্তব্ধ সেই কণ্ঠ। মাত্র ৯ বছর বয়সেই প্রথমবার মঞ্চে গান গেতে তাক লাগিয়ে ছিলেন তিনি।
শনিবার, ১১ জুলাই দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় গায়িকা কে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর চিকিৎসা শুরু করে। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করা হয়। চিকিৎসকদের সব রকম চেষ্টা সত্ত্বেও একাধিক বার হৃদ্যন্ত্র বিকল হওয়ায় তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে গায়িকার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। প্রয়াত ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী এস জানকী।
সুরের জাদু ও অসাধারণ কণ্ঠের জন্য দক্ষিণ ভারতের ‘নাইটেঙ্গল’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ভালোবেসে সকলে তাকে ‘জানকী আম্মা’ বলে ডাকতেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল, তেলুগু, মলয়ালম, কন্নড়, হিন্দি-সহ ২০টিরও বেশি ভাষায় ৪০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছিলেন। নিজের অসামান্য গায়কীর জন্য তিনি কেরিয়ারে ৪টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান তিনি।
১৯৫৯ সালে জানকী দেবী ভি রামপ্রসাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি ওঁকে কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে সবসময় উৎসাহ দিতেন। ১৯৯৭ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামপ্রসাদ মারা যান। শিল্পীর একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন মুরলী কৃষ্ণ, যিনি দুর্ভাগ্যবশত চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রয়াত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলোতে একের পর এক পারিবারিক ক্ষতি এবং শারীরিক বার্ধক্য গ্রাস করলেও তার গান ভারতীয় সঙ্গীত ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

