
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। অভিনেত্রী হিসেবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পায়ের তলার মাটি সেভাবে শক্ত করতে না পারলেও অধিকাংশ মানুষ সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোন হিসেবেই চেনেন পল্লবী কে। খুব অল্প বয়সে এক দূর সম্পর্কের মামার সাথে বিয়ে হলেও সেই সম্পর্ক টেকেনি। পরবর্তীতে আবার নতুন করে সংসার সাজান তিনি। তার একমাত্র মেয়ের নাম রিয়া।
সম্প্রতি বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির এক জনপ্রিয় পডকাস্টে এসে নিজের জীবনের এক চরম অন্ধকার ও হাড়হিম করা তিক্ত অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন পল্লবী। নিজের মা রত্না চট্টোপাধ্যায়ের আচরণ এবং মেয়ে রিয়ার শৈশবের এক করুণ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই গলা বুজে এল অভিনেত্রীর।
পল্লবী জানান, তার মেয়ে রিয়ার শৈশবটা আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মতো সহজ বা আনন্দের ছিল না। নিজের দিদিমার থেকেই রিয়াকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে পল্লবী বলেন, ‘আমার মেয়ের শৈশবটা খুব কঠিন ছিল। একবার দাদার (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) জন্য বাড়িতে কিছু পেস্ট্রি এসেছিল। আমার মেয়ের বয়স তখন কতই বা হবে, বড়জোর ৪ কি ৫ বছর। ও না বুঝে সেখান থেকে একটা পেস্ট্রি খেয়ে ফেলেছিল। সেই অপরাধে বিকেলে মাম্মি (পল্লবীর মা) আমার ওইটুকু মেয়েকে সোজা বলে দেয়— তুমি এখনই রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা করে টাকা নিয়ে এসো, যত টাকার পেস্ট্রি তুমি খেয়েছ!’
সাক্ষাৎকারে পল্লবী আরও বলেন, সন্তানকে নিয়ে একজন মায়ের সবচেয়ে বড় ভয় হল তার মানসিক আঘাত পাওয়া। জীবনের নানা কঠিন সময় তিনি সামলেছেন, কিন্তু মেয়ের চোখের কষ্ট দেখা তাঁর কাছে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক ছিল।
একজন দিদিমা তাঁর মাত্র ৪ বছরের একরত্তি নাতনির সঙ্গে সামান্য একটা পেস্ট্রি খাওয়ার অপরাধে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারেন, তা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান হোস্ট ভিকি লালওয়ানিও।
তারকা পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে বাইরের মানুষ অনেক সময় শুধুই সাফল্য, পরিচিতি এবং আলো ঝলমলে জীবনটুকুই দেখেন। কিন্তু বাস্তবের গল্প অনেক সময় ভিন্ন হয়। যেখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক আঘাতের স্মৃতি এখনও রয়ে গেছে।
