সকাল হতেই সঙ্গীত জগতে ফের শোকের ছায়া। প্রয়াত জনপ্রিয় গায়িকা। দীর্ঘদিন যাবদ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। যদিও সেই লড়াই খুব বেশিদিনের নয়। প্রিয়জনদের উপস্থিতিতেই শেষ বিদায় শিল্পীর। একটা সময় তাঁর গানের অ্যালবামের কোটি কোটি বিক্রি হয়েছে বিশ্ব জুড়ে। অনলাইনে মঞ্চেও তাঁর গান ছিল বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়।
গায়িকার পরিবারে ১২ জন ভাইবোন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে তাঁর বড় হয়ে ওঠা। বাবা সংসার চালানোর জন্য ছোটবেলাতেই পড়াশোনা ছেড়ে কৃষিকাজে যোগ দিয়েছিলেন। বাবার কষ্টের দিনে ছোটবেলা থেকেই গান গাইতেন গায়িকা। গির্জায় গান গেয়েই তাঁর সঙ্গীতজীবনের শুরু। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর গানের স্বপ্ন নিয়ে ন্যাশভিলে চলে যান তিনি। সঙ্গে ছিল গান লেখা একটি সুটকেস। তার কাকাও ছিলেন গীতিকার। তাঁর সাহায্যেই ন্যাশভিলের গানের জগতে পা রাখেন গায়িকা।
টেনেসির পাহাড়ের ছোট্ট কাঠের বাড়ি থেকে উঠে এসে গান, অভিনয়, ব্যবসা এবং সমাজসেবায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। ৮০ বছর বয়সে ন্যাশভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ‘কান্ট্রি’ ঘরানার এই সঙ্গীতশিল্পী। প্রয়াত জনপ্রিয় গায়িকা ডলি পার্টন।
বড় সোনালি রঙের পরচুলা, ঝলমলে পোশাক এবং নিজের চেহারা নিয়ে মজার কথা বলার স্বভাব তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছিল। কান্ট্রি সঙ্গীতের মাধ্যমেই সব বয়সের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
প্রথম দিকে ডলির একক গান খুব একটা সাফল্য পায়নি। পরে নিজের গানের ধরনে বদল আনেন তিনি। কান্ট্রি সঙ্গীতের সঙ্গে পপ সঙ্গীতের ছোঁয়া যোগ করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর জনপ্রিয়তা।
১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় ‘জোলিন’। এই গানই ডলির কেরিয়ারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এর পর ১৯৭৪ সালে আসে ‘আই উইল অলওয়েজ় লভ ইউ’। পর পর দু’বার সেরা মহিলা গায়িকার পুরস্কার পান তিনি এই গানের জন্য।
গানের পাশাপাশি সমাজসেবাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডলির। শিশুদের বিনামূল্যে বই দেওয়ার জন্য তিনি একটি বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। নিজের জন্মস্থান টেনেসির পাহাড়ি এলাকায় তৈরি করেছিলেন একটি জনপ্রিয় পার্ক।

