
বাংলা টেলিভিশনের দুনিয়ায় বরাবরই স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে অভিনেত্রী এমন কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যা শুনে রীতিমত আঁতকে উঠেছে নেটপাড়া।
কনীনিকা জানান, তিনি যখন সুরজিৎকে বিয়ে করেন, তখন জেনেশুনেই এক ডিভোর্সি এবং এক সন্তানের বাবাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত হয় তখনই, যখন কনীনিকা প্রকাশ করেন যে তাদের বিয়ের পর থেকই তার স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রী তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করেন।
এই পরিস্থিতিতে কোনো রকম লুকোচুরি পছন্দ না করে কনীনিকা তার স্বামীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যা করার যেন তাঁর সামনেই করা হয়। কারণ, সম্পর্কের জটিলতা বা পেছনের গল্প নিয়ে মাথা ঘামিয়ে তিনি নিজের মানসিক সুস্থতা নষ্ট করতে চান না।
অভিনেত্রীর কাছে সম্পর্কে যেকোনো ইনসিকিউরিটি বা জটিলতার চেয়ে তার নিজের মানসিক শান্তি অনেক বেশি প্রিয়। কনীনিকার কথায়, তার স্বামী যদি কখনো মনে করেন যে তিনি তাঁর আগের স্ত্রীর কাছেই বেশি ভালো থাকবেন এবং সেখানে ফিরে যেতে চান, তবে কনীনিকার তাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকবে না। তিনি খুশি মনেই স্বামীকে ছেড়ে দেবেন, তবে নিজে আর সেই সম্পর্কে থাকবেন না।
ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েনের পাশাপাশি কনীনিকা তার শাশুড়িকে নিয়েও মুখ খোলেন। কনীনিকা জানান, তার শাশুড়ি মা এখনো সুরজিতের আগের পক্ষের স্ত্রীকেই নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসেন এবং আদর-যত্ন করেন। অন্যদিকে, কনীনিকাকে তার শাশুড়ি কোনোদিনই সেভাবে পছন্দ করেননি বা পরিবারের অংশ হিসেবে মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে পারেননি।
এর পাশাপাশি রয়েছে সৎমা হিসেবে কনীনিকার বরের প্রথম পক্ষের ছেলে দ্রোণকে বড় করার চ্যালেঞ্জ। সমাজ যেভাবে সৎমা শব্দটির গায়ে একটা নেতিবাচক তকমা লাগিয়ে দিয়েছে, তার ফলে ছেলেকে শাসন করার ক্ষেত্রেও কনীনিকাকে অনেক সাবধানে পা ফেলতে হয়, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়।
