
টেলিভিশনের পরিচিত মুখ সোমজিতা ভট্টাচার্য। এর আগে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছে দর্শকের ভালবাসা। সম্প্রতি অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে তার পরিবারে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা সাড়া ফেলেছে নেটপাড়ায়। ফেসবুক ভিডিওতে এসে অভিনেত্রী জানান, সদ্যোজাত শিশুকে কেন্দ্র করে বৃহন্নলাদের ভয়ঙ্কর আচরণে আতঙ্কিত সোমজিতার গোটা পরিবার।
সোমজিতা জানান, চলতি বছরের ১ মে তার বোন ঈশিতা ভট্টাচার্যের একটি পুত্রসন্তান জন্মায়। সন্তান জন্মের পরেই বৃহন্নলাদের একটি দল তাদের বাড়ি আসে। অভিনেত্রীর দাবি সেই সময় নগদ ২০ হাজার টাকা, শাড়ি, প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী দেওয়া হয়। যিনি টাকা নিয়ে ছিলেন তনি নিজের পরিচয়পত্র হিসেবে একটি কার্ড ও ফোন নম্বর দেন। সেই কার্ডে শিশো হেনা কিন্নর নামে একজনের নাম লেখা ছিল। তারা কার্ডটি দিয়ে জানিয়ে ছিলেন ভবিষ্যতে কোন দল এলে এই নম্বরে যগাযগ করতে হবে এবং নতুন করে কাউকে কিছু দিতে হবে না।
কিন্তু আড়াই মাস পর হঠাৎ একদিন দুপুরে যাদবপুরে অভিনেত্রীর বাবার বাড়িতে আবারও বৃহন্নলাদের আরেকটি দল হাজির হয়। সোমজিতার অভিযোগ, ঘরে ঢুকেই তারা গালিগালাজ শুরু করেন। দাবি করে শিশু নাকি মাত্র ১০ দিন আগেই জন্মেছে। অভিনেত্রীর পরিবার আগের কিন্নর দলের কথা বললেও সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ তারা। বরং ২১ হাজার টাকা, সোনা, চাল ডাল সহ আরও সামগ্রী দাবি করতে থাকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমজিতার বোন প্রথমে ১ হাজার টাকা দিতে চাইলে টাকা ফিরিয়ে দেয় বৃহন্নলাদের দল। সবশেষে ৬ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও জোরজুলুম চালিয়ে যায় তারা। অভিনেত্রীর অভিযোগ একজন বৃহন্নলা ঘরের ভিতর ঢুকে অশালীন আচরণ করেন। ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বাবার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে বৃহন্নলাদের দল।
এমনকি আগের দলের দেওয়া পরিচয়পত্রও কেড়ে নেওয়ার চেস্টা করে তারা। পরে জোর করে সেই কার্ডটি ফেরত নেয় অভিনেত্রীর বোন। এখন এই বিষয়ে কোথায় অভিযোগ জানাবেন সেটাও বুঝে উঠতে পারছেন না সোমজিতা। আগের দলের দেওয়া কার্ডে হাওড়া পুলিশের উল্লেখ থাকলেও ঘটনাটি ঘটে কলকাতায়। তাই প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার পয়ার আশাতেই ফেসবুক ভিডিওর মাধ্যমে গোটা বিসয়টিকে সামনে এনেছেন অভিনেত্রী।
