‘এই বয়সে এসে মেকআপ রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়… কাজে নেওয়ার সময় বলেছিল… সংসারটা তো চালাতে হবে আমাকে…’, অবশেষে বিস্ফোরক সত্যি সামনে আনলেন কল্যাণী মণ্ডল

কল্যাণী মণ্ডল

ইন্ডাস্ট্রিতে বহু বছর পার করেছেন অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন চরিত্রে দর্শকের ভালবাসা পেয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে দর্শক তাঁকে দেখছেন ‘আনন্দী’ ধারাবাহিকে নায়কের ঠাম্মির চরিত্রে। দীর্ঘ বছরের এত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও শুটিং ফ্লোরে তাঁর দিনযাপন মোটেই সহজ নয়। সম্প্রতি বিস্ফোরক সত্যি সামনে আনলেন অভিনেত্রী।

কল্যাণী বলেন, “নাহ, এখন তো ১৪ ঘণ্টা শুটিংয়ের নিয়ম। সে তোমার সিন থাকুক কী না থাকুক। নিয়ম মেনে ফ্লোরে এসে বসে থাকতে হবেই। আমি তো মাঝেমধ্যে মজা করে বলি, আমরা বসে থাকার জন্য টাকা পাই।” গরমের পারদ চড়ছে, , এই সময় কি শিল্পীদের জন্য একটুও ছাড় থাকে?

আবহাওয়া যতই খারাপ হোক, শুটিং এর নিয়মে কোনও পরিবর্তন আসে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। কল্যাণী জানান, “একেবারেই নয়। ধরো সকাল আটটায় কল টাইম, খুব রিকোয়েস্ট করলাম যদি সাড়ে আটটায় আসা যায়, তখন হয়তো দয়া করে অনুমতি দিল। কিন্তু এসে দেখলাম ওমা! ডাকে আর না। বসেই আছি হয়তো একটা পর্যন্ত। কখনও কখনও লাঞ্চের পরে সন্ধে সাতটা অবধি বসে আছি। কতবার তো সকালে একটা সিন করে সেই রাত ন’টা অবধি বসে থাকতে হয়েছে‌। আমরা মজা করে বলি, যেন ইডি ডেকে নিয়ে গিয়েছে। জেরা করার জন্য যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়, যেন তেমনই।”

বর্ষীয়ান শিল্পী বলে ফ্লোরে তেমন একটা সুবিধাও পান না বলে জানিয়েছেন কল্যাণী মণ্ডল। অভিনেত্রীর কথায়, “একসঙ্গে চার-পাঁচজন একটা মেকআপ রুমে বসি‌। কখনও ভিড় বেশি হলে রোদে, গরমে বাইরে হাঁটা চলা করতে হয়, বসার জায়গা থাকে না‌। এই বয়সে কতক্ষণ একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকা যায়? এটা আমার বলে নয়, সবারই একই সমস্যা।

কিন্তু কী করব? শুটিং তো করতেই হবে। যদিও আগে কিন্তু এমন হতো না। রবি ওঝার সঙ্গে কাজ করেছি, সেই সময় আরও পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি, এরকম হতো না। কল টাইম থাকতো, আসতাম, মেকআপ করতাম, সিন পড়তাম, ফ্লোরে যেতাম ব্যাস। এখন তো সেসব হয় না। তার উপরে গোটা মাসটা তো বসেই আছি, একদিন মাত্র ডেকেছিল। কিন্তু কাজে নেওয়ার সময় বলেছিল মাসে ১৫ দিন ডেট থাকবে।

আমি একজন সিনিয়র আর্টিস্ট হয়ে কি কাজ চাইব? এটা সাজে আমার? সবারই তো সংসার আছে। যাক গে, ফ্লোরের সবাই ভাল একটা পরিবার, শুধু আমিই খারাপ। কারণ, নিজেরটা তো নিজের মুখে বলতে পারি না, তাই।”