
রাখি, ভাইফোঁটা, হল ভাইবোনের ভালবাসা উদযাপনের দিন। কিন্তু এই স্পেশাল দিন গুলো এলেই মনখারাপ হয়ে যায় ইন্দ্রাণী হালদারের। অভিনেত্রীর কাছে এই দিন গুলো আনন্দ নয় বরং বেদনার দিন। ঠিক কি কারনে মন খারাপ অভিনেত্রীর? ২০১৯ সালে নিজের ভাইকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী। রাখির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভাইয়ের সঙ্গে কাটানো একাধিক স্মৃতি।
সম্প্রতি রাখি পূর্ণিমার দিনে ইন্দ্রানী জানান, “রাখির দিনটা আমার সবসময় শুরু হয় চোখের জল দিয়ে৷ রাখির দু’-তিন দিন আগে থেকেই মনখারাপ থাকে৷ আমার একমাত্র ভাই ইন্দ্রনীল হালদারকে হারিয়েছি৷”
অভিনেত্রীর কথায়, সেই বছরও ভাই ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “দিদি তুই আমাকে রাখি পরাবি না? তোর তো শুটিং আছে৷” সেই সময় শ্রীময়ীর শুটিং নিয়ে বেজায় ব্যস্ত ইন্দ্রাণী হালদার৷ কিন্তু ব্যস্ততার মাঝেও ভাইয়ের জন্য সময় বার করেছিলেন কারণ অভিনেত্রী বলেন, “রাখি পরিয়ে আমি তারপরেই শুটিংয়ে যাব জানিয়েছিলাম ভাইকে৷ কারণ আমার মনে হয়েছিল সেটাই আমার শেষ রাখি পরানো ভাইকে৷ ওর শরীর যেভাবে ভেঙে গিয়েছিল, আমার কথা শোনেনি, ভাই এরকম করিস না, আমার থেকে তিনবছরের ছোট, আমার একমাত্র ভাই…” বলতে বলতেই অঝোরে কেঁদে ফেললেন ইন্দ্রাণী হালদার৷
ইন্দ্রাণী বললেন, “গত দু’বছর সে ভাবে কোনও আয়োজন করতে পারিনি। তবে এই বছর করেছি। বাসমতি চালের ভাত, ডাল, মাছের ডিমের বড়া, ইলিশ মাছ— সব রান্না করেছি। আমার ভাই খুব ইলিশ খেতে ভালবাসত। ওর ছবির সামনে ভাত আর মাছ রেখে বললাম খেয়ে নিতে। মনখারাপ হয়। তবে আমার বাকি ভাইয়েরা আছে।”
ভাইয়ের সঙ্গে সেই শেষ রাখির স্মৃতি যে আজও অভিনেত্রীর মনে কতটা গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে, তাঁর আবেগঘন কথাতেই তা ধরা পড়ে৷ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের কথা মনে পড়লে আবেগ সামলাতে পারেন না তিনি৷ রাখির মতো একটি আনন্দের উৎসবই তাই অভিনেত্রীর কাছে ভাইকে ফিরে দেখার, পুরনো স্মৃতি মনে করার এবং প্রিয় মানুষটিকে আরও একবার অনুভব করার দিন হয়ে ওঠে৷
