‘ওরা আমাকেও রেহাই দিচ্ছে না..’, মৃত্যুর ভুয়ো খবর রটতেই বিরক্ত সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! ‘মানুষ মরার খবর আগে জানতে.., বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে নিয়ে ভুয়ো খবরের পাল্টা জবাব অপরাজিতার

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

হঠাৎ করে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ভুয়ো খবর রটেছে। প্রথমে শোনা যায় তিনি গুরুতর অসুস্থ। তারপর তাঁর মৃত্যুর খবরও একসময় রটে যায়। চিন্তার ভাঁজ পড়ে অনুরাগীদের কপালে। সকলেই প্রবীণ অভিনেত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে ভুয়ো খবরে রীতিমতো বিরক্ত অভিনেত্রীর প্রিয়জনেরা।

৯০ বছর বয়স হলেও আজও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় যে কতটা ফিট, তা তাঁর জীবনযাত্রাতেই স্পষ্ট। লিফটের বদলে আজও তিনি অনায়াসে সিঁড়ি ভেঙে বাড়িতে যাতায়াত করেন। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে রটনা করা হয়, তিনি শয্যাশায়ী।

এই জল্পনায় আক্ষেপ করে সাবিত্রীদেবী বলেন, “আমি বেঁচে আছি। আর সেই বেঁচে থাকাটাকেই দুর্বিষহ করে তুলেছে ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ার জঞ্জাল। এরা তো বাঙালি! এমন খবর রটিয়ে কী আনন্দ পায় সবাই? কিছু কাগজ, চ্যানেল থেকে আমাকেই ফোন করে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে—আমি বেঁচে আছি কি না! আমিই ফোন তুলছি, আর আমাকেই এই প্রশ্ন! শেষমেশ বিরক্ত হয়ে ফোন বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। আমি ফেসবুক দেখি না কখনও। ওখানে কী হয়, জানি না। কারা কী সব রটায়, সেটাও বুঝি না। এই বয়সে এসে আর বুঝতেও চাই না।”

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এই যন্ত্রণার কথা জানার পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অপরাজিতা ঘোষ দাস। অপরাজিতা লেখেন, “সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় একদম ঠিক বলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া একটা জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। মানুষ মনে হয় মরার খবর আগে জানতে চায়।”

শিল্পীর জীবনকে সম্মান জানানোর বদলে ইন্টারনেটের ‘ক্লিকবেট’ বা ভিউ পাওয়ার নেশায় যেভাবে প্রতিনিয়ত তারকাদের নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে এভাবে মানসিক হেনস্থা করা কেবল অসভ্যতা নয়, রীতিমতো অপরাধ।

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়