
টেলিভিশনের পর্দায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ হিসেবে যাকে একসময় বাংলার প্রায় প্রতিটা বাড়ির মানুষ চিনতেন, সেই শাস্বতী গুহঠাকুরতা আজও একইরকম সাবলীল, মাটির মানুষ। দূরদর্শনের সোনালী যুগে তিনি ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা এবং উপস্থাপক। ২০১২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর সেখানে চাকরি করেছেন। আকাশবাণীর রেডিওতে তিনি নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন।
তবে এই সফল ক্যারিয়ারের পেছনে ছিল তাঁর এক বড় ব্যক্তিগত লড়াই। শাস্বতী দেবীর বাপের বাড়ি পড়াশোনার পরিবেশ হলেও, মাত্র ২০ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় এক বড় যৌথ ব্যবসায়ী পরিবারে। সেই পরিবারে বাড়ির বউদের চাকরি করা একেবারেই পছন্দ করা হতো না।
১৯৭৫ সালে যখন তিনি দূরদর্শনে চাকরি পান, তখন তাঁর মেয়ে শ্রেয়া মাত্র কয়েক মাসের শিশু। তাঁর শ্বশুরমশাই ছিলেন সেই বড় পরিবারের একমাত্র প্রধান এবং দাপুটে অভিভাবক, যিনি কোনোভাবেই বউমার এই চাকরি মেনে নিতে পারেননি। শ্বশুরমশাইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছর পারিবারিক আপত্তি ও মানসিক ঝড়-ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে শাস্বতী দেবীকে। কিন্তু কোনো দিন পরিবারের কারও সাথে ঝগড়া বা চেঁচামেচি না করেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। শ্বশুরমশাইয়ের বকুনি খেয়ে কেঁদেছেন, অন্যদিকে শাশুড়ি মায়ের থেকে গোপনে আদর ও সমর্থন পেয়েছেন, তবুও মুখ বুজে নিজের কাজটা করে গেছেন।
জীবনের ৭০ বছর বয়সে এসেও অভিনেত্রী মনে করেন মানুষের পা সবসময় মাটিতে থাকা উচিত এবং অহংকার ভুলে সবসময় নতুন কিছু শেখার মানসিকতা রাখা দরকার। সেই কারনেই হয়ত এত সাফল্য, জনপ্রিয়তার পরেও আজও অভিনেত্রী একেবারে সহজ সাধারন মানুষ।
