
সন্তানের মৃত্যু দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা কোনও বাবা-মায়ের কাছে আর কিছু নেই। অভিনেতা শেখর সুমনের জীবনেও এমনই এক গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। মাত্র ১১ বছর বয়সে বড় ছেলে আয়ুষকে চিরতরে হারান অভিনেতা। প্রথমবার ছেলে আয়ুষের অকালমৃত্যুর মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শেখর।
শেখর জানান, ছেলে আয়ুষ এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল ফাইব্রোসিস (ইএমএফ) নামক একটি বিরল হৃদরোগে ভুগছিল। সেই সময়ে এই রোগের কোনও চিকিৎসা ছিল না। ছেলের মৃত্যুর আগের মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেতা।
অভিনেতা জানান, মৃত্যুর আগে মাত্র ১১ বছর বয়সে আয়ুষ অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটাতে শুরু করেছিল। শেখর সুমনের কথায়, “ও যাওয়ার আগে সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করতে শুরু করেছিল। ওর বয়স মাত্র ১১, ও কীভাবে এটা করল আমি আজও জানি না! ও বলেছিল একটা সোনালী আলো এগিয়ে আসছে। আমার হাত ধরে ও বলেছিল, ‘বাবা, আমি যেতে চাই না, আমায় বাঁচাও।’ এরপর ও সংস্কৃত শ্লোক বলতে শুরু করে, যা দেখে আমরা সবাই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম।
ছেলের অসুস্থতা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন চিকিৎসকদের কাছে একমাত্র সন্তানের মুক্তি চেয়ে হাতজোড় করেছিলেন অভিনেতার স্ত্রী অলকা সুমন। শেখর জানান, “আমি বলেছিলাম, শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। কিন্তু আমার স্ত্রী বলেছিল, ‘আর নয়, এটাই শেষ। ওকে যেতে দাও, ও বড্ড কষ্ট পাচ্ছে।’ ও একজন মা হয়ে নিজের সন্তানের মৃত্যুর প্রার্থনা করেছিল। আর ও ঠিকই বলেছিল, কারণ ওর সেই তীব্র যন্ত্রণা আমরা আর সহ্য করতে পারছিলাম না।”
শেখর সুমন আরও জানান, যখন তিনি আয়ুশের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানতে পারেন, ঠিক সেই সময়ই কেরিয়ারের চরম দুঃসময় দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হাতে কোনও কাজ ছিল না। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে টেলিভিশনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু ছেলের জীবনরক্ষার তাগিদে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি টেলিভিশনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। জয়া বচ্চন প্রযোজিত জনপ্রিয় টিভি শো ‘দেখ ভাই দেখ’-এর শুটিংয়ের সময় তাঁর হাতের কাছেই থাকত ফোন, যাতে ছেলের সামান্য শারীরিক অবনতির খবরও সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যান।
শেখর সুমনে পর্দায় এমন অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন যা মানুষকে হাসিয়ে মন খারাপ নিমেষে দূর করে দিয়েছে। অভিনয় জগতে তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাব মানুষকে মুগ্ধ করেছে। তবে বাস্তব জীবনে সন্তান হারানোর যন্ত্রনা আজও কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে অভিনেতাকে।

