
বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়। পর্দার খলনায়ক হলেও, বাস্তব জীবনে কিন্তু সুপারহিরো। অভিনেতার অদম্য লড়াইয়ের গল্প আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। অভিনেতা যেমন নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন, তেমনই পর্দার আড়ালে একাই লড়েছেন জীবনের কঠিনতম যুদ্ধ। সাগ্নিক কেবল একজন দক্ষ অভিনেতাই নন, তিনি একজন আদর্শ বাবা। অভিনেতার দুই সন্তান—এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে আজ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
কিন্তু অভিনেতার ছেলে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন অর্থাৎ স্পেশাল চাইল্ড। ছেলের বড় হয়ে ওঠার গল্পটা ছিল ভীষণ যন্ত্রণার। জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রের জটিল সমস্যা নিয়ে লড়াই করা সেই ছোট্ট শিশুটির জন্য একের পর এক অস্ত্রোপচার চলেছে তিন বছর বয়স পর্যন্ত। ঠিক সেই কঠিন সময়ে ভাঙন ধরে সাগ্নিকের দাম্পত্য জীবনে। আইনি জটিলতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ছেলের সব দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নেন সাগ্নিক।
ছেলের ডান হাত অকেজো হওয়া সত্ত্বেও সাগ্নিক তাঁকে কখনও স্পেশাল স্কুলে পাঠাননি, চেয়েছিলেন স্বাভাবিক পরিবেশেই ছেলে পড়াশুনা করে বড় হোক। যদিও সমাজের নানা প্রতিকূলতায় শেষ পর্যন্ত বিশেষ স্কুলেই ভর্তি করতে হয় ছেলেকে। আজ সেই ছেলেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে গান-বাজনা নিয়ে মেতে আছে। অভিনেতা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমি ওদের জন্ম দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু মানুষ করতে পেরেছি কি না সেটা ওরাই বড় হয়ে বলবে।” সমস্ত ঝড় সামলে নিজের জীবন দিয়ে সাগ্নিক প্রমাণ করেছেন, লড়াই মানে শুধু টিকে থাকা নয়, লড়াই মানে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখা।
