
২০১৫ সালে ‘সারেগামাপা’র মঞ্চে কীর্তন গেয়ে নজর কেড়েছিলেন অদিতি মুন্সি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় কীর্তন শিল্পী। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে বিধায়কও হন। বর্তমানে তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর গায়িকা কে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। এর মাঝেই অদিতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ‘সারেগামাপা’ বিজয়ী সৌম্য চক্রবর্তী। গায়কের দাবি, প্রতিযোগিতার সময় থেকেই অদিতির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না তার।
এক সাক্ষাৎকারে সৌম্য বলেন, অদিতি এক সময় তাঁকে রাগ সঙ্গীত শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তিনি ভালোভাবে নেননি। সৌম্য বলেন, ‘যে কীর্তনটাও ঠিকঠাক গাইতে পারে না, সে যদি আমায় রাগ সঙ্গীত শেখাতে যায় তাহলে তার বিষয়ে আর কি বলা যেতে পারে।’ প্রতিযোগিতার সময় অদিতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ছিল। যদিও সেই বিষয়গুলো পরে তিনি ভুলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান সৌম্য।
সৌম্য দাবি করেন, একাধিক প্রেমিক বদলেছে। যে অকে সারেগামাপায় ঢুকতে সাহায্য করেছিল, অডিশন দেওয়ানো বা অন্য সবভাবে পাশে ছিল, তাকেই পরে জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। আমাদের যে স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন, তাকে ধরে ভেবেছিল ও খুব সহজে জিতে যাবে।’
সৌম্যের বক্তব্য, অদিতির আর্থিক অবস্থা এক সময় খুব সাধারণ ছিল, আর পরবর্তীকালে তাঁর আর্থিক উত্থান নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে সৌম্যর দাবি, সারেগামাপায় অংশ নেওয়ার সময় অদিতির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু পরে কিভাবে এত বড় সম্পত্তির মালিক হলেন তা আমরা সকলেই জানি।
অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে সৌম্য জানান, একবার একটা ক্যাফেতে প্রতিযোগীদের একটি আড্ডায় সবাই মিলে বিল ভাগ করে দিলেও অদিতি নাকি কোনও টাকা না দিয়েই বেরিয়ে যান। এছাড়া ফাইনালের সময় পরিবারের জন্য অন্যদের তুলনায় অদিতি অনেক বেশি প্রবেশপত্র পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সবশেষে সৌম্য বলেন, আমি ওর বিরোধী না, তবে ওর কাজের বিরোধী। ও যদি নিজেকে সময় দিয়ে, সবকিছু থেকে দূরে সরে একজন শিল্পী হিসেবে আবার গানে ফিরে আসে তাহলে আমি সত্যি খুশি হব।’ একই সঙ্গে আইনের তদন্তে যদি কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়াই উচিত। সৌম্যর দাবি, একটা সময় মানুষ অদিতির গান ভীষণ ভালবেসেছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। তাই বিতর্কের বদলে গায়িকা সঙ্গীতচর্চায় ফিরুক তেমনটাই চান সৌম্য।
