
টেলিপাড়ায় প্রায়ই শিরোনামে উঠে আসে তারকা দম্পতিদের ঘর ভাঙার খবর। কিছুদিন আগেই যেমন ছোটপর্দার অভিনেত্রী তৃণা সাহা আর অভিনেত্রী নীল ভট্টাচার্যের ডিভোর্সের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। নেপথ্যে অভিনেতার জন্মদিন। নীলের জন্মদিনে প্রত্যেক বারের মতো এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়নি তৃণা কোনও শুভেচ্ছা পোস্ট। এমনকি নীলের জন্মদিনের পার্টিতেও দেখা মেলেনি স্ত্রীর। আর তারপরেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়। নীল আর তৃণা নাকি এবার সত্যি সত্যিই ডিভোর্সের পথে হাঁটতে চলেছেন? খবরটা কি সত্যি? অবশেষে টাইমস অফ ইন্ডিয়া এক সাক্ষাৎকারে নীরবতা ভাঙলেন অভিনেত্রী।
এই সংবাদমাধ্যমের কাছে নীলের সাথে ডিভোর্সের প্রসঙ্গে তৃণা জানান, “লোকে অনুমান করুক। নীল আর আমার ডিভোর্স হয়নি। বিবাহিত জীবন আমার জীবনের একটি অংশ, কিন্তু আমার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। নীল আমার কাছে কী, তা আমাদের দুজনের ব্যাপার – এর জন্য জনসমক্ষে স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই।”
তাহলে স্বামীর জন্মদিনে তৃণার তরফ থেকে কেন কোনও শুভেচ্ছা বার্তা মেলেনি? তৃণা বলেন, “আমি তার জন্য শুভকামনা জানিয়েছিলাম। সবকিছু পোস্ট করার দরকার নেই। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করাটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। হ্যাঁ আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছি। কিন্তু মানুষ বদলায়। প্রতি বছর পরিস্থিতি, অগ্রাধিকার এবং অভিব্যক্তি বিকশিত হয়।”
নীলের জন্মদিনের পার্টিতে না থাকার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “নীলের আনন্দটাই আসল। ও নিজের ইচ্ছেমতো উদযাপন করেছে, আর তাতে আমি খুশি।” ক্ষোভ পুষে রাখা নাকি এগিয়ে যাওয়া? এই প্রশ্নের উত্তরে তৃণা জানান, “কেউ আপনার সাথে অন্যায় করেছে বলেই কি আপনাকে তার সাথে খারাপ কিছু করতে হবে? আমি সেরকম মানুষ নই। ওই ব্যক্তি অন্যায় করেছে এবং সে তা জানে। বিশ্বাস করুন, প্রতিশোধের চেয়েও অপরাধবোধ মানুষকে অনেক বেশি কষ্ট দেয়। আমি জানি ওই ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিয়েছে। সে খুব ভালো করেই জানে সে আমার সাথে কী করেছে এবং তাতে আমি কতটা যন্ত্রণা পেয়েছি। তাই এই অপরাধবোধ আর কষ্টটা শুধু ওই দুজনের মধ্যেই থাকুক। আমি চারজনকে এটা বলে কোনো ঝামেলা করতে চাই না। মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আত্মসম্মান গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি চারজনকে এটা বলি, তারা আমার জন্য আমার চোখের জল ফেলতে পারবে না। যখন আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি, তখন কেউ আমাকে ঘুমাতে সাহায্য করতে পারেনি। তাই, যখন সেই পরিস্থিতিতে কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারছে না, তখন তারা কেন আমার দুঃখের অংশীদার হবে? জানেন সমস্যাটা কোথায় হয়? ধরুন, আপনার আর আমার মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। তারপর এক-দুই বছর পর, যদি কোনোদিন আমাদের মধ্যে মিটমাট হয়ে যায়, তাহলে আপনি যাদেরকে এর মধ্যে জড়িয়েছেন, তাদের সবার সামনে আপনাকে একটা ভাঁড়ের মতো দেখাবে। শেষ পর্যন্ত আপনি নিজেই নিজের হাসির পাত্র হবেন।”
