
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়নী চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। মগরার বাসিন্দা সায়নীর মৃত্যু নিয়ে অতিমধ্যেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। এ বার মেয়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। আচমকাই মেয়ের চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা। ঠিক কি হয়েছিল সায়নীর?
সায়নীর মা কথায়, ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে তাঁর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কমপক্ষে চারবছরের প্রেম। দুই পরিবারই এই সম্পর্কের কথা জানত। মেয়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশলেও, একসঙ্গে সারাদিন ভিডিওর কাজ করলেও মনের ভিতর যে কী ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে পারেননি মলিদেবী।
ঘটনার আগের দিন নাকি প্রেমিক সায়নের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সায়নী। ফিরেছিলেন কাঁদতে কাঁদতে। তবে তার জেরে যে এমন পদক্ষেপ মেয়ে করতে পারে তা ভাবতে পারেননি মলিদেবী। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। ওই বাড়িতে নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছিল। সেই কারণেই সায়নী একাজ করেছে।”
সায়নীর বন্ধুবান্ধব সূত্রে খবর, প্রেমিক দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে হেনস্তা করছিল সায়নীকে। নিত্য মদ্যপান করত, মারধর তো করতোই। কিন্তু মায়ের কাছে কোনওদিনই তা জানাননি সায়নী। হয়তো ভেবেছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবটা ঠিক হয়ে যাবে। মলিদেবী জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন থেকে বেশ কিছু চ্যাট পাওয়া গিয়েছে। যা তদন্তকারীদের সহযোগিতা করবে।
এদিকে জানা যাচ্ছে, ঘটনার পর থেকে উধাও সায়নীর প্রেমিক ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্বাভাবিকভাবেই আচমকা উধাও হয়ে যাওয়ায় তাঁকে ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। সকলের প্রশ্ন, অপরাধ না করলে পালালেন কেন?
কষ্ট করে মেয়েকে দাঁড় করিয়েছিলাম, সব ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেল। পশুপাখি সবাই কাঁদছে ওর জন্য। আমি কী করে সামলাব, জানি না।” পুলিশ সূত্রে অবশ্য এখনও কিছু জানানো হয়নি তদন্তের বিষয়ে।
