আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেন পালন করা হয়

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এর ইতিহাসঃ

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এর ইতিহাসঃ

৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীদের অধিকার, সম্মান ও শ্রদ্ধার কথা মাথায় রেখেই প্রতিবছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে সারা বিশ্ব জুড়ে। ভাবতেই লজ্জা হয়, ২০২০ তে দাঁড়িয়ে আজও নারী সম্মান নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হছে।

১৯০৮ সালে এই দিনটি সূচিত হয়েছিল। সে বছর কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য কলকারখানার নারী শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেছিল। আন্দোলনের পেছনে অন্যতম কারন ছিল কম পারিশ্রমিক, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে কর্মজীবী নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মলেন অনুষ্ঠিত হয় ১৯১০ সালে।

আরও পড়ুনঃ ২০১৮ শীতকালীন অলিম্পিকঃ শীতকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এর ইতিহাসঃ

women day

নারী দিবস পালন করা হয় বিশ্বের নানা প্রান্তে। এর পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম। ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রায় ১৫ টি দেশে এই দিবসকে জাতীয় ছুটি হিসাবে ঘোষিত হয়।
আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বারো ঘণ্টা কাজ করানোর প্রতিবাদে একটি সূচ কারখানার মহিলারা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তাদের উপর নেমে আসে পুলিশের লাঠিচার্জ। ঐ কারখানার মহিলারা “নারী শ্রমিক সমিতি” গঠন করে আন্দোলন চালিয়ে যান।

১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস শুরু করেছিল যখন তারা চাকরির সময় হ্রাস করার জন্য এবং তাদের বেতন বাড়ানো ও ভোট দেওয়ার অধিকারের দাবীতে মহিলারা মিছিল বের করেছিল। এর এক বছর পর আমেরিকাতে এই দিনটিকে জাতীয় মহিলা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

১৯১০ সালের আগস্টে কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের বার্ষিক  উদযাপনের জন্য দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রীর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে আমেরিকান সমাজতান্ত্রিক এবং জার্মান সমাজতান্ত্রিক  সহায়তায় আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের বার্ষিক উদযাপনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই সভার জন্য কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। সকল মহিলার সমতার অধিকার প্রচারের জন্য এই কর্মসূচি উদযাপন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

১৯১০ সালে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে ঘোষিত করা হয়েছিল। দিবসটি পালনের জন্য এগিয়ে এসেছেন সমাজতন্ত্রীরা।

এটি প্রথমবার ১৯১১ সালে ১৯ শে মার্চ মার্চ অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ডেনমার্ক এবং সুইজারল্যান্ডের লক্ষ লক্ষ মানুষ করেছিল। বিভিন্ন ধরণের ইভেন্ট যেমন প্রদর্শনী, মহিলাদের প্যারেড, ব্যানার ইত্যাদি রাখা হয়েছিল। মহিলাদের ভোট দেওয়ার দাবি, সরকারী দফতরের মালিকানা এবং কর্মসংস্থানে লিঙ্গ বৈষম্যের অবসানের মতো বিষয়গুলি সামনে রাখা হয়েছিল। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় মহিলা দিবস হিসাবে পালিত হয়।

এটি ১৯১৩ সালে প্রথমবারের মতো ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার রাশিয়ান মহিলারা উদযাপন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে সিডনিতে মহিলাদের দ্বারা একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

সারকথাঃ
নারী দিবসের ইতিহাসে রয়েছে নারী শ্রমিকদের গরুত্বপূর্ন অবদান। উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন হাজার হাজার নারী।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস | স্লোগান | Wishes and Quotes | 2020

আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেন পালন করা হয়?

কীভাবে উদযাপন হয় এই দিনটিঃ

মানবচক্রের যেই মধ্যম থেকে পৃথিবী আসা, সেই মাধ্যম হল নারী। কখনো মা, কখনোও বোন আবার কখনো বা স্ত্রী ধর্ম পালন করে গেছে। নিজের সুখ বিলিয়ে দিতে পিছপা হন না এই নারীরা। কিন্তু তাদেরই বেশি অসম্মান ও লাঞ্চনা সম্মুখীন হতে হয় এই সমাজে। তাই তাদের উদ্দেশে সম্মান ও শ্রদ্ধা এবং সমঅধিকার জানাতেই উদযাপন হয়ে থাকে এই দিনটি।

সারকথাঃ
ধর্মে আছে, নারীরা দেশের সম্মান। কিন্তু পদে পদে তারাই অসম্মানিত হন।

আরও পড়ুনঃ কম খরচে ইউনিক ঘর সাজানোর টিপস জেনে রাখুন

কীভাবে উদযাপন হয় এই দিনটিঃ

international women day

ভারতে মহিলাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসটি ৮ ই মার্চ ভারতীয় জনগণ পুরো উৎসাহ এবং আবেগের সাথে পালন করে। এই উদযাপনটি সমাজে নারীর অধিকার এবং অবস্থান সম্পর্কে প্রকৃত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। মহিলাদের সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধান করে তাদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি প্রচার করে।

সারা বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিনটি পালন করে থাকে। একদিকে যেমন সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন মুখ্য বিষয়। অন্য দিকে কোথাও আর্থিক, সামজিক সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি বেশি গুরুত্ব পায়।

যুগের পর যুগ সম অধিকারের প্রচেষ্টায় লড়াই চালিয়ে যাছে নারীরা। তাদের অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে মনে করিয়ে দেয় এই দিনটা। নানা আয়োজন করা হয়ে থাকে এই দিনটাকে ঘিরে। অনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। সরকারিভাবে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়ে থাকে এই দিনটিতে। নৈশভোজন,মধ্যাহ্নভোজ, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিয়াকলাপ, বক্তৃতা, উপস্থাপনা, মহিলাদের প্যারেড, শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সেমিনার, সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। মহিলাদের অধিকার, অবদান, শিক্ষার গুরুত্ব, জীবিকা ইত্যাদির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে এটি উদযাপিত হয়।

প্রত্যেক বছর এই দিনটাই শুধু নারীদের সম্মান করব সেটা কিন্তু নয়, বরং প্রতিদিন নারীদের শ্রদ্ধা জানানো প্রত্যেকের কর্তব্য।

সারকথাঃ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস এর পূর্বে নাম ছিল আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস।

আরও পড়ুনঃ হযরত আলী জন্মদিন কেন পালন করা হয়?

নারী দিবসের তাৎপর্যঃ

women

নারী দিবসের আলাদা কোনো তাৎপর্য নেই। পৃথিবীর প্রতিটি দিনই নারীর কর্মতৎপরতায় আলোকিত হয়। নারী সমঅধিকার, মজুরি, ও মর্যাদা প্রতিবাদের জন্য তাৎপর্য বিশেষ। সমাজে নারী ও পুরুষ সমান এটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই নারী দিবস পালন হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলার চলচ্চিত্র উৎসব এর অবদান

সারকথাঃ
নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক জয়ের জন্য সর্বব্যাপি নারী দিবস পালন করা হয়ে আসছে। এখন সময় এসেছে নারীর উন্নয়নে। তারা বদলে যাছে কর্ম জীবনের ধারায়।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রঃ ভারতে কবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়?

উঃ ভারতে ৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়।

প্রঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস কবে শুরু করা হয়েছিল?

উঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ১৯০৮ সালে সূচনা করা হয়েছিল।

প্রঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস  কবে অনুষ্ঠিত হয়?

উঃ ১৯১০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রঃ নারী দিবস পালন করার মূল লক্ষ্য কি ছিল?

উঃ নারী দিবস পালন করার মূল লক্ষ্য ছিল নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here