বুদ্ধপূর্ণিমা | গৌতম বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী

buddha purnima

buddha purnima

সূত্রঃ-  indianexpress . com

বুদ্ধ জয়ন্তী এই নামটি সঙ্গে পরিচিত বেশিরভাগ মানুষ। আর এই বুদ্ধ জয়ন্তী হল আমাদের বুদ্ধ পূর্ণিমা। যা বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম উৎসব। বুদ্ধপূর্ণিমার দিন বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এটি সবচেয়ে পবিত্র বৌদ্ধ উৎসব। এদিনে গৌতম বুদ্ধের আলোকিতকরণ এবং মহাপরিনির্বাণ ঘটেছিল। এই উৎসবটি বৈশাখ মাসে পূর্ণিমার দিন উদযাপিত হয়।

বুদ্ধদেবের স্মরণে প্রতিবছর এই দিনটি দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা আয়োজনের সঙ্গে পালিত হয়। অনেক হিন্দুরা বিশ্বাস করেন ধর্ম শাস্ত্রে নির্দেশ করা আছে ভগবান বিষ্ণুর নবম অবতার হলেন গৌতম বুদ্ধ। বুদ্ধপূর্ণিমা এই দিনটি সরকারী ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এই দিনটি আমাদের কাছে বিশেষ একটি দিন কারন ভগবান বুদ্ধের মূল্যবান জীবন ও মৃত্যু উভয়ই জড়িত এই দিনটিকে ঘিরে। আসুন জেনেই বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনের কিছু কথা।

আরও পড়ুন >> দোল পূর্ণিমা : দোল পূর্ণিমা বাংলার বসন্ত উৎসব

গৌতম বুদ্ধের জীবন (Life of Gautama Buddha)                                          

Budha purnima

সূত্রঃ-  Instagram

৫৬৩ খ্রিঃ পূঃ ভগবান বুদ্ধের জন্ম হয়। কপিলাবস্তু কাছে লুম্বিনী কাছে শাক্য বংশের রাজার পরিবারে জন্ম নেন তিনি। তার শৈশবের নাম ছিল সিদ্ধার্থ। তাঁর পিতার নাম শুদ্ধোধন এবং মাতার নাম মায়াদেবী।

কথায় আছে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন, একবার তিনি খুব অসুস্থ একজন ব্যক্তিকে দেখেছিলেন, তিনি যখন আরও কিছুদূর গেলে, তখন দেখতে পায় একজন বৃদ্ধকে এবং শেষ পর্যন্ত একজন মৃত ব্যক্তিকে দেখলেন। এই সমস্ত দৃশ্য দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে তিনিও একদিন অসুস্থ হয়ে যাবে, বৃদ্ধ হবে এবং অবশেষে মারা যাবেন। এই প্রশ্নগুলি তাঁকে অনেক সমস্যায় ফেলেছিল। তারপরে তার সাথে এক সন্ন্যাসীর সাক্ষাৎ হয় এবং সেই সন্ন্যাসী তাঁকে জানায় মানুষের দুঃখের জন্য নিজ গার্হস্থ্য জীবন ত্যাগ করেছেন। এবং বুদ্ধ দেব সিধান্ত নেন তিনি সংসার ত্যাগ করবেন।

happy budha purnima

সূত্রঃ- jansatta . com

গৌতম বুদ্ধ ২৯ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং পরে সন্ন্যাসী হন। গৌতম বুদ্ধ অশ্বত্থ গাছের নীচে জ্ঞানার্জনের সন্ধানে ছয় বছর কঠোর তপস্যা করেছিলেন, যেখানে তিনি “সমবোধি” নামে সত্যের জ্ঞান লাভ করেছিলেন। সেই অশ্বত্থ গাছকে তখন বোধি গাছ বলা হত। যেখানে স্থান বা আলোক বা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তাকে   বলা হয় বুদ্ধগয়া। চল্লিশ দিনের ধ্যানের পরে একাই তিনি নির্বাণ লাভ করেন। ৪৮৩ খ্রিঃ পূঃ কুশীনগরে  বৈশাখ পূর্ণিমার দিন  বুদ্ধদেবের অমৃত আত্মা মানবদেহ ছেড়ে মহাবিশ্বে মগ্ন হয়েছিলেন। এই ঘটনাকে ‘মহাপরিনির্বাণ’ বলা হয়।

ভগবান বুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং বিষ্ণুর নবম অবতার হিসাবেও বিবেচিত হন। বৌদ্ধ পূর্ণিমা একটি শুভ উপলক্ষ, যেখানে বুদ্ধের জীবনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল, অর্থাৎ তাঁর জন্ম, তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর মৃত্যু।  বিশ্বাস করা হয় যে গৌতম বুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং একই দিনে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন >> গুড ফ্রাইডে পালন | Wishes, Messages, SMS, Quotes

বুদ্ধপূর্ণিমা কবে (When is the Buddha Purnima)

Budha

সূত্রঃ-  Instagram

প্রতিবছর এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন করা হয়। এবছর অর্থাৎ ২০২০ সালের বুদ্ধ পূর্ণিমা ৭ ই মে।

আরও পড়ুন >>  ভীমরাও রামজি আম্বেদকর জয়ন্তী দিবস

কোথায় বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হয় (Where Buddha Purnima is celebrated)

87719185_2433668913610696_1154796090497186778_n

সূত্রঃ- Instagram 

ভারত জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় যেমন বুদ্ধগয়া, সারনাথ (একটি উদ্যান যেখানে গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে ভেবেছিলেন), এবং কুশীনগর। সিকিম, লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ এবং উত্তরবঙ্গের বৌদ্ধ অঞ্চলগুলিতে বিশাল আড়ম্বরে উদযাপিত হয়।

দিল্লির বুদ্ধজয়ন্তী পার্কেও এই উৎসব পালন করা হয়। পার্কটি দিল্লি রিজের দক্ষিণ প্রান্তের দিকে রিজ রোডে অবস্থিত।  এছাড়াও অন্যান্য দেশে যেমন থাইল্যান্ডের বিশাখা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে মূলত উদযাপিত হয়।

আরও পড়ুন >> জেনে নিন রাম নবমী পালনের কারন

বুদ্ধপূর্ণিমা কীভাবে পালন করা হয় (How is celebrated Buddha Purnima)

buddha jayanti

সূত্রঃ- wikimedia . org

বুদ্ধপূর্ণিমার প্রধান উৎসবটি বুদ্ধগয়াতে পালন করা হয়। কারন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য বুদ্ধগয়া গৌতম বুদ্ধের জীবন সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। বুদ্ধগয়া  ভারতের বিহারের গয়া জেলার একটি ছোট শহর। ভক্তরা বৌদ্ধ পূর্ণিমার দিন মন্দিরগুলিতে দান করেন।

বিশ্বব্যাপী বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ ভক্ত ভগবান বুদ্ধকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে সমবেত হন। রঙিন বৌদ্ধ পতাকা সহ মন্দির এবং অঞ্চলটি সাজানোর পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা লাইট, মোমবাতি দিয়ে তাদের ঘর সাজায়। সকালে প্রার্থনার পর শোভাযাত্রা, বড় বড় নৈবেদ্য সহ পূজা, মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

buddha birthday

সূত্রঃ- live . staticflickr . com

এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা স্নান করেন এবং কেবল সাদা পোশাক পরেন। লোকেরা ভগবান বুদ্ধের মূর্তির সামনে ধূপ, ফুল, মোমবাতি এবং ফল দিয়ে পূজা করেন। অশ্বত্থ গাছের উপাসনা করা হয় এবং নৈবেদ্যও দেওয়া হয়। এটি এমন এক গাছ যেখানে ভগবান বুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

সমস্ত বৌদ্ধ ব্যক্তি এই পবিত্র দিনে তাদের বাড়িতে নিরামিষ খাবার রান্না করে। খাঁচা থেকে পাখি মুক্ত করা বেশিরভাগ দিনকে শুভ মনে করা হয়। তারা তাদের পুরো দিনটি বুদ্ধের জীবন এবং শিক্ষার ব্যাখ্যা শুনে কাটায়।  উত্তর প্রদেশের সারনাথে একটি বিশাল মেলা বসে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বুদ্ধ মূর্তি পূজা করা হয়।

আরও পড়ুন >> ছত্রপতি শিবাজী জয়ন্তী দিবস উদযাপন

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধপূর্ণিমার দিন বুদ্ধের শিক্ষার  প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন। তারা দরিদ্র, প্রবীণ এবং যারা অসুস্থ তাদের সহায়তা করে এমন সংস্থাগুলিকে অর্থ, খাবার বা জিনিস দেয়।  এইভাবে তার জন্ম ও মৃত্যু স্মরণে বুদ্ধপূর্ণিমা পুরো দিনটি উদযাপিত হয়।

সারকথাঃ

বুদ্ধ জয়ন্তী একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং উৎসাহজনক উপলক্ষ।

আরও পড়ুন >> মহা শিবরাত্রি উদযাপন | Wishes and Quotes

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ 

প্রঃ ২০২০ সালে বুদ্ধপূর্ণিমা কবে?

উঃ ২০২০ সালে বুদ্ধপূর্ণিমা ৭ ই মে।

প্রঃ বুদ্ধপূর্ণিমা কোন দিনে পালন করা হয়?

উঃ বুদ্ধপূর্ণিমা বৈশাখ মাসে পূর্ণিমার দিন পালন করা হয়।

প্রঃ বুদ্ধপূর্ণিমা কেন পালন করা হয়?

উঃ গৌতম দেবের বৈশাখ মাসে পূর্ণিমার দিন জন্ম হয়েছিল এবং মৃত্যু হয়েছিল। তাই তার জন্ম ও মৃত্যু স্মরণে এই দিনটি বুদ্ধপূর্ণিমা হিসাবে পালিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here