১২ দিন ধরে হাসপাতালের ICU-তে আদৃত রায়! ‘আর একটা দিন দেরি হলে বাঁচানো যেত না…’, জানালেন অভিনেতার চিকিৎসক

আদৃত!

বাংলা ছোটপর্দার হার্টথ্রব অভিনেতা আদৃত রায়। তবে এই মুহুর্তে তিনি ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের ঈশান। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইট থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন অভিনেতা। কিন্তু সম্প্রতি ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের সেটে এক সাক্ষাৎকারে আদৃত জানালেন তার সাথে ঘটে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা।

টানা ১২ দিন আইসিইউ (ICU)-তে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে ফিরে এসেছেন, সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা প্রথমবার খোলসা করলেন আদৃত। ‘মিত্তির বাড়ি’ শেষ হওয়ার পর আদৃত কেন হঠাৎই বিরতি নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই আসল সত্য সামনে আনেন অভিনেতা।

সিটি সিনেমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আদৃত জানান, ‘মিঠাই’ ধারাবাহিক চলাকালীনই কাজের চরম চাপ ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে শুটিং করার ফলে ওঁর পায়ে একটি ব্লাড ক্লট (Blood Clot) বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ধরা পড়েছিল। প্রথমে সাধারণ চোট মনে করে বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু আসল বিপর্যয় ঘটে যখন তিনি ‘মিত্তির বাড়ি’র শুটিং করছিলেন।

অভিনেতা জানান, পায়ে থাকা সেই ব্লাড ক্লটটি একসময় রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে সরাসরি ওঁর ফুসফুসের ধমনীতে (Pulmonary Artery) গিয়ে আটকে যায়। এর ফলে ওঁর শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট শুরু হয় এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে গেলে ডাক্তাররা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন অভিনেতাকে। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন,‘আর মাত্র একটা দিন যদি হাসপাতালে আসতে দেরি হতো, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে চলে যেত এবং জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ত।’

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে আদৃতকে টানা ১২ দিন আইসিইউতে (ICU) রাখা হয়েছিল। এই মরণাপন্ন পরিস্থিতির কারণেই ওনাকে বাধ্য হয়ে ক্যামেরার সামনে থেকে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বিরতি নিতে হয়েছিল। বর্তমানে আদৃত সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নতুন উদ্যমে ও নিয়মিতভাবে ‘কুমকুম’ মেগার শুটিং সামলাচ্ছেন।