
১৩ বছর বয়সে পরিস্থিতির চাপে পরেই নিজের মামাকেই বিয়ে করেছিলেন। যদিও খুব বেশিদিন সেই সম্পর্ক টেকেনি। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের অনেক পরে দ্বিতীয়বার আবার সংসার পেতেছিলেন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সংসারও সুখকর হয়নি। এমনকি নিজের সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে না পাওয়া যন্ত্রণা নিয়ে দিনযাপন করছেন তিনি।
নিজের কঠিন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, মেয়েকে নিজের কাছে রাখার প্রবল ইচ্ছা ছিল অভিনেত্রীর। কিন্তু পরিস্থিতি এবং আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়েই মেয়েকে প্রাক্তন স্বামীর কাছে রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে ২১ বছর কেটে গেলেও সন্তানের থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী পল্লবী চ্যাটার্জি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সেই না-বলা কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি। অতীতের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। জানান, মেয়ের প্রতি টান এবং মাতৃত্বের অপূর্ণতা আজও তাঁর মনের গভীরে রয়ে গিয়েছে।
পল্লবীর কথায়, মেয়ের প্রতি মাতৃত্বের অনুভূতি তাঁর জীবনের এমন এক ক্ষত, যা কোনও দিনই পুরোপুরি মুছে যাওয়ার নয়। প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও একে অপরের প্রতি কোনও তিক্ততা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, মতের অমিল থেকেই হয়তো তাঁদের সম্পর্ক টেকেনি, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তাঁদের মধ্যে কেউ খারাপ ছিলেন। বরং তাঁরা একে অপরের জন্য উপযুক্ত ছিলেন না। তবে মেয়ের অভাব যে আজও তাঁকে কষ্ট দেয়, তা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের একটি ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন পল্লবী। অভিনেত্রীর কথায়, মেয়ের জায়গা কখনও অন্য কেউ নিতে পারবে না। তবুও মনের গভীরে থাকা মাতৃত্বের টান থেকেই আগামী দিনে আরও একটি সন্তান দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
