
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এমন অনেক অভিনেত্রী রয়েছেন যাদের প্রথম সংসার টেকেনি কিন্তু দ্বিতীয়বার ঘর বেঁধে সুখে শান্তিতে রয়েছেন তাদের মধ্যেই একজন হলেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী। যিনি ছোট পর্দা ও বড় পর্দা, থিয়েটার চুটিয়ে কাজ করেছেন। সম্প্রতি বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও সঞ্চালক সুজয়প্রসাদ চ্যাটার্জীর জনপ্রিয় পডকাস্ট শো তে এসেছিলেন অভিনেত্রী। আর সেখানে ব্যক্তিগত জীবন এবং বর্তমান স্বামীকে নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়।
এই শোতে এসে বিদীপ্তা জানান, জীবনে এমন একটা মোড় এসেছিল যখন প্রথম পক্ষের ছোট মেয়ে সোমরির বয়স ছিল মাত্র চার বছর, তখন রম অনিশ্চয়তার মধ্যে মেয়েকে নিয়ে আগের সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসি। ঠিক সেই সময় জীবনে নতুন বন্ধু হয়ে আসে পরিচালক বিরসা দাশগুপ্তের। বিরসা তখন ২৫ বছরের তরুণ। যখন সমবয়সী যুবকেরা সাধারণত নিজেদের কেরিয়ার, আনন্দ বা নানা রকম জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন বিরসা এক নিঃসঙ্গ মা ও তাঁর চার বছরের সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে এক বিরল মানবিকতা, পরিপক্কতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।”
অভিনেত্রী আরও জানান, “বিরসা আমাকে বলত তোমার সঙ্গে ভালোবাসা হওয়ার থেকেও আমার সোমরির সঙ্গে একটা গভীর ভালোবাসা হয়েছিল।’ বিদিপ্তা আগের সম্পর্ক নিয়ে বলেন, আগের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে আজও তার আত্মিক যোগসূত্র রয়েছে…সাধারণত সম্পর্ক ভেঙে গেল দূরত্ব তৈরি হয় কিন্তু তার খেতে উল্টো। তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার বর্তমান জীবনের সাথে এখনো জড়িত। সকলের সাথে মধুর সম্পর্ক রয়েছে বিদীপ্তার। সেই বাড়ির কোনও অনুষ্ঠানে এখনো প্রথমে তার ডাক পড়ে। তার প্রাক্তন এক ননদ নাকি এখনো সময় পেলে বর্তমান শাশুড়ির সাথে গল্প করতে চলে আসেন।
এমনকি অভিনেত্রী যখন তার আগের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তার মনোবল বাড়িয়েছে তাই অভিনেত্রী মনে করেন তার সুস্থ জীবনের পিছনে প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির অবদান অনেক।
তবে একসময় বিরসা দাসগুপ্তকে বিয়ে করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। অনেকে বলতেন “বান্ধবীর ছেলেকে বিয়ে করেছো, ছি! লজ্জা করেনা?”। সুজয় প্রসাদকে এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘বিরসার মা জনপ্রিয় অভিনেত্রী চৈতালী দাসগুপ্তকে আগে থেকেই ‘কেয়া পিসি’ বলে ডাকতেন। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। কোনো একটি পডকাস্টে কেয়া পিসি বলেছিলেন— ‘ও তো (বিদীপ্তা) আমার বন্ধু ছিল, তারপরে একটা সময় দেখলাম আমার ছেলের সঙ্গে ওর ভাব।’ ব্যস এই সূত্র ধরে বিয়ের পর সকলের কটাক্ষের মুখে পড়ত হয় তাকে।’
সুত্রঃ https://binodonxp . com/entertainment/tollywood/bidipta-emotional-reminiscence-about-birsa-42763
