‘আমি কোনদিন মা হতে পারিনি তার কারন একটাই… ওকে মানুষ করতে গিয়েই… জীবনের শেষ ইচ্ছেটা…’, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অনন্যা সেনগুপ্ত

অনন্যা সেনগুপ্ত।

বাংলা সিরিয়ালের পর্দায় পরিচিত মুখ অনন্যা সেনগুপ্ত। একসময় পড়াশোনা শেষ করে কর্পোরেট চাকরিতে যোগ দিলেও, শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের টানেই আজ তিনি ক্যামেরার সামনে। এই মুহুর্তে জি বাংলার কুসুম ধারাবাহিকে ‘মীনাক্ষী’র মতো নেগেটিভ চরিত্রে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছুই না পাওয়া থেকে গেছে অভিনেত্রীর।

অভিনয় জগতে আসার আগেই তার বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিকভাবে পরিচয়ের পর এক ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করেন অনন্যা। তবে অনন্যার মাতৃত্বের সংজ্ঞাটা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। ২০০৭ সালে তাঁর এক ফ্ল্যাটের বান্ধবী ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’ থেকে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন, যার নাম সরণ্যা। সেই ছোট্ট সরণ্যাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবেসে, আগলে রেখে বড় করেছেন অনন্যা।

অভিনেত্রীর কথায়, “আমার দত্তক নেওয়া মেয়েটাই এখন আমার সবচেয়ে ভালো বান্ধবী।” অরণ্যার বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেই সম্পর্ক থেকেই মাতৃত্বের অনুভূতি পেয়েছেন বলে জানান অনন্যা।
সরণ্যাকে মানুষ করতে গিয়ে তিনি কোনোদিন আলাদা করে নিজের বায়োলজিক্যাল সন্তানের প্রয়োজন বোধ করেননি।

নিজের সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা এবং পারিবারিক চাপের মুখেও পড়তে হয়েছে। অভিনেত্রীর মতে, মাতৃত্ব শুধুমাত্র রক্তের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভালোবাসা, যত্ন এবং দায়িত্ববোধের মধ্যেও একজন মানুষ মাতৃত্ব খুঁজে পেতে পারেন।

এমনকি ভবিষ্যতে পথশিশু ও অসহায় প্রাণীদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখছেন অনন্যা।