
অবসান হল এক সোনালী যুগের। চলে গেলেন আরও এক কিংবদন্তী শিল্পী। পরিবার ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠিত হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর গলায় একটি টিউমার হয়েছিল। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। খাওয়া-দাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন তিনি।
অবশেষে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ প্রয়াত হয়েছেন সারিন্দা বাদ্যযন্ত্রের জাদুকর মঙ্গলাকান্ত রায়। ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ি গ্রামে, নিজের বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শিল্পী। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ১০৪ বছর।
ওপার বাংলার মানুষ হলেও সারেঙ্গী বাদক মঙ্গলাকান্ত রায়ের সুরের মূর্ছনায় বারবার মুগ্ধ হয়েছে এপার বাংলার মানুষও। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিদের রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে লোকসঙ্গীত ও লোকশিল্পের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।
২০২৩ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি। শুধুমাত্র গানের সুরে সারেঙ্গী বাজাতেন তা নয়, বিভিন্ন পশুপাখি ডাক নকল করতে পারতেন তিনি সারেঙ্গীর সাহায্যে। কিন্তু এত গুণী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও চরম অনটনে জীবন কাটিয়েছেন তিনি।

