
বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ প্রীতম দাস। ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’র জগদম্বার ছোট ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে যিনি একসময় ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, আজ তিনি আচমকাই ইন্ডাস্ট্রি থেকে গায়েব। এর আগে বেশ কয়েকটি মেগা সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গেলেও, বর্তমানে অভিনেতাকে দেখা যাচ্ছে না সেভাবে। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের এই অনিশ্চিত ক্যারিয়ারের মাঝেই এবার সামনে এলো চরম বাস্তবতা।
ইদানীং প্রীতমকে স্টুডিওর চেনা ফ্লোরে বা কোনো শুটিং সেটে নয়, বরং দেখা যাচ্ছে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায়। তাও আবার একা নয়, সাথে রয়েছে মাত্র চার মাসের এক ছোট্ট সন্তান। কোনো নতুন শুটিংয়ের ব্যস্ততা নেই, মেকআপের চড়া আলো নেই, চেনা চেনা সহ-অভিনেতাদের ভিড়ও নেই সব ছেড়ে এখন চার মাসের বাচ্চাকে নিয়েই নাকি দিন কাটছে অভিনেতার।
অভিনেতাকে এভাবে রাস্তায় ঘুরতে দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ না পেয়ে, অর্থের অভাবে পড়েই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন প্রীতম? চার মাসের সন্তানকে আগলে ধরে এভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পিছনের আসল রহস্যটা ঠিক কী? তবে কি সত্যিই কোনো কঠিন পরিস্থিতির শিকার প্রীতম?
আসলে পুরো ঘটনাটা একটু অন্যরকম। প্রীতম কোনো অর্থকষ্টে পড়ে সন্তানের হাত ধরে রাস্তায় নামেননি, বরং তিনি পা রেখেছেন জীবনের এক সম্পূর্ণ নতুন ইনিংসে। সম্প্রতি কলকাতার পাটুলি এলাকায় নিজের একটি ছোট্ট ডেজার্ট বা মিষ্টির কাউন্টার খুলেছেন অভিনেতা। আর নিজের মনের খুব কাছের এই নতুন ব্যবসাকেই তিনি তুলনা করেছেন তাঁর ‘৪ মাসের সন্তান’-এর সাথে।
সদ্য শুরু হওয়া এই ব্যবসার বয়স মাত্র ৪ মাস, আর ঠিক নিজের সন্তানের মতোই পরম যত্নে এই কাউন্টারটিকে আগলে রেখেছেন তিনি। নিজেই ঘুরে ঘুরে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন তাঁর এই ৪ মাসের ভালোবাসা।
অভিনেতার এই কাউন্টারে পাওয়া যাচ্ছে রকমারি সুস্বাদু ডেজার্ট। প্রীতম নিজে দাবি করেছেন, তাঁর এখানে যে সমস্ত মিষ্টি বা ডেজার্ট পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। মিষ্টিমুখ করতে ভালোবাসেন অথচ স্বাস্থ্যের ক্ষতি চান না, এমন ভোজনরসিকদের জন্য এটি এক দারুণ উদ্যোগ। কাজ না থাকার হতাশাকে দূরে সরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদেই অভিনেতার এই ছোট্ট প্রচেস্টা।
