
চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। আত্মহত্যার আগে লাইভে এসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। এমনকি তিনি হাসপাতালে থাকাকালীন গায়িকার দিদি এবং মা জানিয়েছিলেন দেবলীনার উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন অত্যাচার করেন। এমনকি গায়িকা সুস্থ হওয়ার পরও স্বামী প্রবাহ নন্দীর দিকেই একাধিক অভিযোগ আনেন। সেই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় হৈ চৈ পড়ে যায়।
শোনা যায় প্রবাহ নাকি দেবলীনার মাকে নিয়ে সমস্যা ছিল। সেই সমসময় একাধিক কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল পাইলট প্রবাহ নন্দীকে। তবে টু-শব্দ খরচ করেননি তিনি। প্রবাহ কেন চুপ নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল তাকে। ডিভোর্সের পর ফের জিনিসপত্র নিয়ে দেবলীনা একাধিক অভিযোগ এনেছেন সমাজ মাধ্যমে। তবে আর চুপ নয়, এবার টিভি নাইন বাংলার কাছে অবশেষে মুখ খুললেন দেবলীনার প্রাক্তন স্বামী প্রবাহ।
টিভি নাইন বাংলার কাছে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন প্রবাহ। তিনি জানিয়েছেন দেবলীনা একাধিক মিথ্যা কথা বলছেন। তাদের পরিবারের সম্পর্ক নিয়ে প্রবাহ জানান, “দেবলীনার সঙ্গে আমার বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভালো ছিল, সেগুলো আপনারা ভিডিয়োতেই দেখতে পারবেন। মায়ের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল ওঁর। আমি যখন শুনলাম যে আমাদের পরিবারের সঙ্গে ওঁর সম্পর্ক নাকি ভালো নয়, ভীষণই অবাক হয়েছি।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “সেই সময়ে তিন-চারদিন ধরে সমাজ মাধ্যমে একটা আদালত বসেছিল। আমি এত দিন তাই নিয়ে কোনও কিছু বলিনি। কারণ আমার স্ত্রীর সম্পর্কে কোনও নেগেটিভ মন্তব্য করতে চাইনি। এটাই প্রথমবার, যখন কোনও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। আমার দিকটা এবার সকলকে জানানো প্রয়োজন। এই ঘটনায় আমি খুব বেশি প্রভাবিত হয়েছি। ১৫-১৬ দিন কাজ করতে পারিনি ঠিক করে। আমার কোম্পানিকে জানাতে হয়েছিল, এখন কাজ করতে পারছি না। ছুটি নিতে হয়েছিল। আমার সব সময়ে মনে হতো, আমার কথাটা তো কেউ শুনলই না। একটা সম্পর্কে টুকটাক সমস্যা হয়, কিন্তু কী এমন হলো যে দেবলীনাকে এত বড় পদক্ষেপ করতে হলো, সেটা তো আমিই জানি না! আমি একটাই কথা বলব, দেবলীনা, ওঁর মা, বাউন্সার আর ড্রাইভার একটা গাড়িতে যাচ্ছিল। মায়ের উপস্থিতিতেই কি দেবলীনা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল? এখন মনে হয়, কেন আমার সঙ্গে এরকম করল। আজ অবধি উত্তর পাইনি। এই ঘটনার পর মানুষ না জেনেই আমাকে অপমান করেছেন, আমি হুমকিও শুনেছি। আমি একটা কথা বলছি, জীবন শেষ করে দেওয়া একটা অপরাধ। কেউ কি সমাজ মাধ্যমে সেটা প্রোমোট করতে পারেন? পুরো বিষয়টায় তদন্ত হওয়া দরকার। ”
প্রবাহ নন্দী বলেন, “দেবলীনা কিন্তু এমনিতে খুব শর্ট টেম্পারড। ও আমাকে চড় মেরেছে, আবার পা ধরে ক্ষমাও চেয়েছে। এফআইআর-এ ও লিখেছে যে, আমি ওঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছি। আমরা যখন বেড়াতে গিয়েছি, তখনও আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। ও চাইত, আমি ওঁর সব কথায় ‘হ্যাঁ’ বলব। ‘ও মদ খেয়ে আমাকেও বলেছে যে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে মরতে চাই’। যাই হোক, ও বলে আমি সমাজ মাধ্যমে গিয়ে বলব। ওটা কি কোনও আদালত? দেবলীনা বলে, হয় সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করবে, নয় জীবন শেষ করে দেবে। বা পলিটিকাল কানেকশন ব্যবহার করবে। এই ঘটনার পর আমার পরিবার খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। এমনকী ও সমাজ মাধ্যমে বলেছে, আমার ভাইয়ের সমানে ওঁকে নাকি অন্তর্বাস গুণতে হয়েছে! এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কাছে তার প্রমাণ আছে। আমি এতগুলো কথা বলার পর দেবলীনা কী করবে জানি না। কিন্তু কোথাও আমার কথাগুলো বলা দরকার ছিল।”
