
২০১৫ সালে ‘সারেগামাপা’র মঞ্চে কীর্তন গেয়ে নজর কেড়েছিলেন অদিতি মুন্সি। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে বিধায়কও হন। বর্তমানে তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর গায়িকা কে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। কিছুদিন আগেই ‘সারেগামাপা’র চ্যাম্পিয়ন সৌম্য চক্রবর্তী একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন অদিতির বিরুদ্ধে। সৌম্যর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার অদিতি সম্পর্কে মুখ খুললেন ‘সারেগামাপা’র আরও দুই প্রতিযোগী দুর্নিবার সাহা ও শোভন গাঙ্গুলি।
অদিতি মুন্সিকে নিয়ে সৌম্য চক্রবর্তীর মন্তব্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সঙ্গীত মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে কি সত্যিই ব্যক্তিগত পরিচিতি বা প্রভাব খাটিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায়?
দুর্নিবার বলেন, ” একটা রিয়েলিটি শো একটা চ্যানেল যখন অর্গানাইজ করে, তখন প্রতিযোগীরা ওই রিয়েলিটি শো-এর প্রোডাক্ট। ভাল গান গেয়েও কেউ প্রভাব ফেলতে পারেন৷ একটা রিয়েলিটি শো-তে শুধু ভাল গান গাইলাম বা ভাল নাচ করলাম এটা দিয়ে হয় না, আরও অনেকগুলো ফ্যাক্টর থাকে৷ কথাবার্তা, সহশিল্পীর সঙ্গে আচরণ, বিচারকদের প্রতি সম্মান সবটাই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ হিসাবে ভাল হওয়াটা যথেষ্ট দরকার। তবে আমি প্রত্যক্ষভাবে কাউকে দেখিনি অন্য কোনও রকম প্রভাব খাটিয়ে কিছু করতে। আমার চোখের সামনে কেবল আমি এবং আমার গান আর আমার শিক্ষকদের পরামর্শ এটুকুই ছিল আমার কাছে একমাত্র বাস্তব৷”
অন্যদিকে শোভন গাঙ্গুলিও সৌম্যর মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন। শোভন জানান, “ব্যক্তিগতভাবে আমার এরকম কোনও অভিজ্ঞতা নেই৷ যে রিয়েলিটি শোয়ের কথা বলা হচ্ছে সেখানে এরকম ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কিছু হয় না৷ সেখানে গান গাওয়ার দক্ষতা এবং শ্রোতাদের ভাললাগাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ এই কথার তো কোনও ভিত্তি নেই৷ কারও সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক যদি হয়ও তার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই৷ আর কে গান গাইতে পারে কে পারে না এটা তো ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে৷ আমার তো মনে হয় না অদিতি এতটাও খারাপ গান করেন, যে মঞ্চে গান গেয়ে ও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সেই মঞ্চে মানুষজন ওর গান পছন্দ করেছে৷ এমন তো নয় যে ওর গান জোর করে মানুষকে শোনানো হয়েছে৷ পছন্দ না করলে মানুষ তো এতদিন ধরে অদিতির গান শুনতেন না, অদিতিও গায়িকা হিসাবে টিকে থাকতে পারত না৷ কেউ ভাল গাইছেন না তবুও মানুষ তাকে পছন্দ করছেন এমনটা তো হয়না।”
