‘প্রচন্ড মারধর করত…৩৪ বছরের জন্য ক্ষতিপূরণ দিচ্ছ, ভিক্ষা দিচ্ছ না…’, ডিভোর্সের পর সৌরভের দাদা স্নেহাশিসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রাক্তন স্ত্রী মোম গঙ্গোপাধ্যয়ের

স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

২০২৪ সালের ২১ জুলাই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। ৫৯ বছর বয়সে শুরু করেন নতুন জীবন। এর আগে নৃত্যশিল্পী মোম গঙ্গোপাধ্যায়কে বিয়ে করেছিলেন স্নেহাশিস। দুজনের এক কন্যা সন্তানও ছিল।

২০২৩ সাল নাগাদ স্নেহাশিসের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থা, বউ পেটানোর অভিযোগ এনেছিলেন প্রাক্তন স্ত্রী মোম গঙ্গোপাধ্যায়। স্নেহাশিস ব্যাট দিয়ে মারধর করত, চলত যৌন নির্যাতন, পুলিশকে জানান তিনি। এমনকী, পরকীয়ার ব্যাপারও আনেন সামনে। যদিও পরবর্তীতে সব ঠিক করে নেন দুজনে। মিউচুয়াল ডিভোর্স নেন। জানা যায়, খোরপোশ হিসেবে প্রথম স্ত্রীকে ৫ কোটি টাকা ও একটি ফ্ল্যাট দেন স্নেহাশিস।

সম্প্রতি নিবেদিতা অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোরপোশ নিয়ে কথা বললেন মোম। সঙ্গে জানালেন যে, প্রাক্তন স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী অর্পিতার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক তাঁর।

মোম জানান, ‘আজকে আদালত যদি বলে দেয়, ও শিক্ষিত। ও নিজের রোজগার করে নিতে পারে। এতদিন ধরে আমি কোনো কাজ করিনি। আমি মোহিনীআত্তম ডান্স ফর্মের আর্টিস্ট। লম্বা সময় পরে আমি আর্ট ফর্মে ফেরত এসেছি। এবং আমাদের আর্টে কম পয়সা আছে। সবার তো সেই সৌভাগ্য হয় না, লাখ বা কোটি টাকার ঘরে রোজগার করার।

সেখানে যদি ৫৪ বছর বয়সে বলা হয়, এবার তোমাকে নিজের রোজগার নিজেকেই করতে হবে। ৩৫ বছর তুমি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজই করোনি। ৫৪ বছর বয়সে এসে কে আমাকে চাকরি দেবে। কারণ ৫৬-তে তো অবসর। এই যে আনরিয়েলিস্টিক, ইনসেনসিটিভ কোর্ট অর্ডার দেওয়া এটা বন্ধ করা উচিত।’

‘একটা বয়সে এসে শরীর ভেঙে যাওয়া থাকে, মন ভেঙে যাওয়া থাকে, যেহেতু পরিবারের ইমোশনাল কোশেন্ট মহিলারা নিয়ে থাকে, তাই ইমোশনাল দিক থেকে ক্ষয়ও বেশি হয় মহিলাদের, সেটাকে ক্যালকুলেট করে ফিক্সড আরেকটা অ্যামাউন্ট সেই স্বামীদের দেওয়া উচিত, যারা দিতে সক্ষম। ঠেকিয়ে দিয়ে, তোমায় তো দিয়ে দিলাম ভাব দেখানো খুব অপমানজনক। ভিক্ষা দিচ্ছ না, তুমি সেই ৩৪ বছরের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছ, যা সে তোমায় দিয়েছে। ওটা (খোরপোশ) প্রয়োজনও হয়, মহিলাদের ওটা নিতেও হয়। কিন্তু এত অসম্মানের লাগে!’

মোম আরও বলেন, ‘স্নেহাশিসের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমানে তাঁর সম্পর্ক মধুর না হলেও, দুজনের মধ্যে কথা হয়। ‘ঘটনাক্রমে এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আমরা এখন কথাবর্তার টার্মসে আছি। অর্পিতার সঙ্গেও কথা হয়। ইনস্ট্যান্ট ভ্যালিডেশনের যুগে সবাই হয়তো বলে দেবে বন্ধু। কিন্তু আমি বলব, উই আর সিভিল। আমরা ভদ্র ভাবে, ম্যাচিওর ভাবে কথা বলে বেরোতে পারি, মনে কোনো খারাপ লাগা না রেখে। ওরকম একটা লেভেল অফ পিস আমরা তৈরি করেছি। কখনো আমার এক্স হাজবেন্ড বিজি আছে, কিন্তু কথা বলা দরকার, তখন আমি ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।’