প্রয়াত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি কেবল লেখকের সহধর্মিণীই নন, স্বাতীদেবী নিজেও দীর্ঘদিন সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপিকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে স্বামীর প্রয়াণের বহু বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা কথা তুলে ধরলেন স্বাতীদেবী। তিনি জানান, স্বামী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দীর্ঘদিন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও তা পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।
ক্যান্সারের মত মারন রোগ প্রায় ১০ বছর ধরে চেপে রেখেছিলেন তিনি। এমনকি তা নিজের স্ত্রীয়ের কাছেও প্রকাশ করেননি। শারীরিক কষ্ট থাকা সত্বেও নিজেকে কাজের মধ্যেই ডুবিয়ে রাখতেন সুনীলবাবু। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলম থামাননি তিনি।
স্বামীকে হারানোর পর স্বাতীদেবীর জীবনও সহজ ছিল না। সুনীল বাবুর প্রয়াণের প্রথম দুই-তিন বছর পর থেকেই তাঁর শরীরে নানা রোগ ও জটিলতা শুরু হয়।
সাক্ষাতকারে স্বাতীদেবী জানান, ‘আমি এতই অশক্ত যে ভালোভাবে আপনাদের সঙ্গে হয়তো কথাই বলতে পারব না। তার হাত-পা এখন আর আগের মতো সচল নেই এবং তিনি দীর্ঘক্ষণ বসে কথা বলতেও শারীরিক কষ্ট অনুভব করছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমার হাত পায়ে কিছুই আর নেই, আমি একদম হুইলচেয়ার বাউন্ড।’ লাস্ট চার-পাঁচ বছর ধরে তার শরীর এতটাই ভেঙে গেছে যে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না।
স্বাতীদেবী জানিয়েছেন যে মাঝে মাঝে তিনি স্মৃতিভ্রমের শিকার হন বা কথা ভুলে যান, যা তাকে আরও বেশি অসহায় বোধ করায়। তিনি তার স্মৃতিগুলো এবং স্বামীর ফেলে যাওয়া পাণ্ডুলিপি গুলো আঁকড়েই দিনের পর দিন একা কাটান।
সুনীল বাবুর মৃত্যুর পর থেকেই তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি গান গাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেন। এর ফলে তার গলার স্বর পুরোপুরি বসে গেছে। চোখের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি আজও বই পড়ার চেষ্টা করেন। নিজে গাইতে না পারলেও গান শুনেই তিনি তাঁর অবসরের ক্লান্তি দূর করেন।
স্বাতীদেবী ছেলে শৌভিক বোস্টনে থাকেন। ছেলে বছরে তিন-চারবার এসে তাকে দেখে গেলেও, স্বাতী দেবী মনে করেন ভারতবর্ষের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির কারণেই মেধাবী সন্তানদের বিদেশে চলে যেতে হয়, যার ফলে বাবা-মাকে শেষ বয়সে একা থাকতে হয়। এই বিচ্ছেদ তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিয়েছে।


