তার হাত ধরেই জনপ্রিয়তা মিললেও কেন ‘রান্নাঘর’ থেকে বাদ পড়েছিলেন সুদীপা? ‘সবকিছুই জন্য আমি দায়ী…বাধ্য হয়ে…’, অবশেষে আসল কারণ জানালেন প্রাক্তন সঞ্চালিকা

সুদীপা চট্টোপাধ্যায়

‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ যেমন রচনা ছাড়া অসম্পূর্ণ, তেমনি জি-বাংলার ‘রান্নাঘর’ যেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অসম্পূর্ণ। আজও চ্যানেলের রান্নাঘর সম্প্রচারিত হচ্ছে কিন্তু শো নিয়ে দর্শকের উন্মাদনা আর নেই। কারণ যার হাত ধরেই মিলেছিল জনপ্রিয়তা সেই নেই। তাই দর্শকের আগ্রহ কমছে।

বর্তমানে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রান্নাঘর সামলালেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সুদীপার হাত ধরেই এই শো চলেছিল সাকসেসফুল। কিন্তু আচমকাই শো থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে কিন্তু কেন?

শো থেকে বাদ পড়ার সময় প্রাক্তন সঞ্চালিকার মন খারাপ ছিল যদিও কেন তিনি বাদ পড়েছিলেন জানা যায়নি অবশেষে পডকাস্ট শোয়ে এসে সেই নিয়েই মুখ খুললেন।

সুদীপার কথায়, ‘খুব অল্প বয়স তখন আমার সেই থেকেই আমি রান্নাঘরের প্রথম সঞ্চালিকার কাজ শুরু করি। আমার মানুষের ইন্টারভিউ নিতে খুব ভালো লাগতো। তখন একটা নিউজ চ্যানেলে কাজ করছি। সেখান থেকেই একটা শো করার অফার আসে। কিন্তু আমাদের সময় দেওয়া হয়েছিল ১০-১২ দিনের একটা শো করার জন্য।’

‘সবাই মিলে আলোচনা করে পরে ঠিক করা হয় রান্নার শো করা হবে। ছোট একটা ঘর সেখানে কয়েকজন মিলে সেই শো টাকে শুরু করি। এর আগে বেণুদি তাপস পালের স্ত্রীর রান্নার শো করেছিল। সেটা দেখেই ভেবেছিলাম কি দেখালে দর্শক এই শো পছন্দ করবে। তারপর শো তে অতিথিদের ইন্টারভিউ নিতে শুরু করি।

তাদের জীবনের গল্প শুনতে শুরু করি। আর সেই গল্পগুলোই পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে সকলের কাছে। আর সেই শো দেখে সকলের ইচ্ছে জাগে আমি আমার কথা পৌছে দেবো। সেখান থেকেই দর্শকদের আগ্রহ শুরু হয়। সেই করতে করতে দীর্ঘ ১৭ বছর ৫০০০ এপিসোড আমি সম্পন্ন করি।’

সুদীপা আরও বলেন, ‘রান্নাঘর থেকে আমাকে যে বাদ দিয়ে দেওয়া হল তার পেছনে আমারও কিছুটা হাত রয়েছে। আমিও তার জন্য কিছুটা দায়ী। আসলে ১৭ বছর ধরে একটা শো করছি ভালো না বাসলে তো এই শো আমি এতদিন টেনে নিয়ে আসতে পারতাম না। কিন্তু শেষের দিকে আমার মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব চলে এসেছিল। ভালো লাগছিল না একঘেয়ে লাগছিল। আমি দশ হাজারেরও বেশি রান্নার রেসিপি দেখিয়ে ফেলেছি এই ১৭ বছরে। আর কি দেখাবো। তাই আমিও কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সব মিলিয়ে তারপরে সিদ্ধান্ত নি সরে আসার।’