‘মাঝেমধ্যেই পা বেঁকে যায়…’, মাত্র দেড় বছর বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত বরুণ ধাওয়ানের ছোট্ট মেয়ে! চোখে জল নিয়ে মুখ খুললেন বলি অভিনেতা

বরুণ ধাওয়ান

মেয়ের বয়স সদ্য ১ বছর ৯ মাস। এইটুকু বয়সেই বিরল রোগে আক্রান্ত বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের একমাত্র কন্যা ‘লারা’। ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ক্যামেরার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন বরুন। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে মেয়ে লারার বিরল রোগের কথা সামনে আনলেন বরুণ।

বরুন জানান, তাঁর মেয়ে লারা ‘ডিডিএইচ’ বা ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ দ্য হিপ’ নামের এক বিরল রোগে আক্রান্ত। বিরল এই রোগের জন্য মেয়ের কোমরের দিকের একটি অংশ বেরিয়ে আসে। এবং দুই পায়ের মাপও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যায়। যার ফলে হাঁটাচলায় অসুবিধা হচ্ছে তাঁর। ছোট থেকেই লারার চিকিৎসা শুরু করতে হয়েছিল বলে জানান অভিনেতা।

বরুণ বলেন, ‘হাঁটতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ওর পা বেঁকে যায়। অনেক ছোট বয়স থেকেই চিকিৎসা চলছে। প্রায় আড়াই মাস স্পাইকা পরে থাকতে হয়েছিল মেয়েকে। এই সময়টা খুবই কঠিন আমাদের জন্য।’ যদিও লারার কোনও অপারেশনের প্রয়োজন হয়নি বলেও জানিয়েছেন বরুণ। কারণ, চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ পদ্ধতির অবলম্বন করেছিলেন।

মেয়ের ওই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরে বরুণ বলেন, ‘অচৈতন্য করে আমার মেয়েকে স্পাইকা কাস্ট পরানো হতো। ওই আড়াই মাস সময়টা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে কেটেছে আমাদের সকলের। তবে এখন আর ওটা পরানো হচ্ছে না। অন্য চিকিৎসা চলছে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে লারা।’

বরুণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি লারার জন্য কারও ‘সিম্প্যাথি’ বা সহানুভূতি চান না। বরং তিনি চান অন্যান্য অভিভাবকরা যেন সচেতন হন। সন্তানদের হাঁটাচলা বা শরীরের নড়াচড়ায় সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখলেই যেন দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়।

বাবা হিসেবে মেয়ের এই কষ্ট সহ্য করা অত্যন্ত যন্ত্রণার। তবে এই কঠিন সময়ে বরুণকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তাঁর বাবা ডেভিড ধাওয়ান। প্রতি মুহূর্তে মনের জোর দিয়েছেন ছেলেকে।