
রবিবার তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সাঁতার জানা সত্ত্বেও কীভাবে রাহুলের মৃত্যু হল? তা এখনো ধোঁয়াশা।
গোটা টলিউড থেকে ফেডারেশন আঙুল তুলেছে প্রযোজনা সংস্থার উপর। লেখিকা লীনা গাঙ্গুলিকে দায়ী করা হয়েছে। এদিকে রাহুলের মৃত্যুতে তার সহ-কর্মীরা কেন চুপ? সরব নেটপাড়া। দুর্ঘটনা ঘটার দিন রাহুলের সাথে জলেই ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। তিনিও সমুদ্রে পড়ে যান। তাকে বাঁচানো গেলেও বাঁচানো যায়নি রাহুলকে। অভিনেতার পুরো ঘটনায় সাক্ষী ছিল শ্বেতা।
২৯ মার্চের পর থেকেই শ্বেতা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। সেদিনের দূর্ঘটনার কারণে এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারছেন না। তাঁকে সামলাচ্ছেন তাঁর পরিবার। শ্বেতার কাছে তাঁর ফোনও নেই। চিকিৎসকের পরামর্শেই তাঁকে এখন বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। চলছে ওষুধও। শ্বেতার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয়েছে যে তিনি একটু সুস্থ হলেই প্রয়োজনীয় সমস্ত কথা মিডিয়া ও আইনজীবী, সকলের কাছে সত্যিটা জানাবেন।
শ্বেতার পরিবারের তরফে অনুরোধ করে বলা হয়, ‘এই তদন্ত চলার মাঝে ওকে সুস্থ হতে দিন এবং ওর পাশে থাকুন যাতে ও সুস্থ হলে সঠিকের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং যেটা সঠিক সেটা করতে পারে।’ অবশেষে সুস্থ হয়ে মুখ খুললেন শ্বেতা।
আজকাল ডট ইনকে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, “মাথায় সবসময় ঘুরছে সেদিনের ঘটনাটা। চোখের সামনেই শুটিং করতে করতে রাহুলদা জলে তলিয়ে গেল। অনেকেই বলছে শ্বেতাকে আগে উদ্ধার করা হয়েছিল, রাহুলদা জলে এক, দেড় ঘণ্টা বেশি ছিল। কিন্তু আমি তো দেখেছি, দু’জনকেই একসঙ্গে জল থেকে তোলা হয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার সময়ই সব শেষ। যখন জানতে পারি রাহুলদা আর নেই, তারপর থেকেই শরীরের মধ্যে অস্বস্তি হতে থাকে। ঘুমাতে পারছি না ঠিক করে। জনসমক্ষে আসছি না বলে অনেকেই অনেককিছু ভাবছেন, কিন্তু আমি এই প্রসঙ্গে বারবার কথা বলতে পারছি না। বাড়িতেও এই নিয়ে কথা উঠছে না, যাতে আমি সুস্থ থাকতে পারি। চোখের সামনে দেখা এই ঘটনা ভোলা সম্ভব নয়। রাহুলদার মৃত্যুর তদন্ত হচ্ছে জেনে খুশি হয়েছি। আমিও চাই সত্যিটা যেন সবার সামনে আসে, তাহলে সবার মাথার মধ্যে যে হাজার প্রশ্ন ঘুরছে সেসব বন্ধ হবে।”
