‘এক রাতের নোটিশেই… এখানে সততার দাম নেই… চুক্তিপত্র থাকা সত্ত্বেও..’, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে বাদ পড়তেই চ্যানেলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তন্বীর

তন্নি লাহা রায়

বর্তমানে বাংলা সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা আর টিআরপি-র ইঁদুর দৌড়ে অনেক সময় পিষ্ট হতে হয় শিল্পীদেরই। তাদের মধ্যেই একজন হলেন অভিনেত্রী তন্নি লাহা রায়। যাকে সকলে চেনে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের মীরা হিসেবে। গ্রে শেডের এই চরিত্রটি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু আচমকাই তাকে ধারাবাহিক থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এক সাক্ষাতকারে তন্নির স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি নিজে থেকে এই ধারাবাহিক সরতে চাননি এবং কেন তাঁকে সরানো হলো তার কোনো সঠিক উত্তরও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাননি। স্রেফ গল্পের পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে যেভাবে তাঁকে হঠাৎ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কার্যত এক রাতের নোটিশে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার মতোই যন্ত্রণাদায়ক বলে তিনি মনে করছেন।

তন্নি জানিয়েছেন, তিনি যখন কোনো হাউসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকেন, তখন চরম সততার সঙ্গে কেবল সেই কাজটিতেই মনোনিবেশ করেন এবং বাইরের অন্য কোনো লোভনীয় কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করেন না। অথচ তাঁর এই দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠতা এবং ডেডিকেশনের বিনিময়ে ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে শেষ পর্যন্ত কী প্রতিদান দিল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

তন্নির আক্ষেপ, আজকালকার দিনে সততা বা লয়ালিটির কোনো দাম নেই এবং চুক্তিপত্র থাকা সত্ত্বেও অভিনেতাদের কাজের কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা নেই। এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য অনেক ছোট-বড় শিল্পীরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁরাও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।

তন্নি জানিয়েছিলেন মীরা চরিত্রের অনেক গল্প এখনো বাকি ছিল এবং চরিত্রটির পরিণতির জন্য তিনি নিজেও অধীর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ তাঁকে আর দেওয়া হয়নি, যা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা।

তবে কি পর্দার পেছনের কোনো বিশেষ চক্রান্ত বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনেই মীরার ট্র্যাকটি বন্ধ করে দেওয়া হল? ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকরা দাবি তুলেছেন যে, হয় মীরাকে ফিরিয়ে আনতে হবে নতুবা এই ধারাবাহিক বয়কট করা হবে। একজন অভিনেত্রীর কেরিয়ার নিয়ে এমন খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সেই উত্তর এখন খুঁজছে বাংলার দর্শক।