একটা সময় বাংলা ধারাবাহিকে চুটিয়ে কাজ করলেও এখন আর সেভাবে পর্দায় দেখা মেলে না অভিনেত্রী স্বর্ণকমল দত্তের। মাঝে কিছুদিনের জন্য চিরসখা ধারাবাহিকে দেখা গেছিল অভিনেত্রীকে। সম্প্রতি অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তুমুল চর্চা নেটপাড়ায়।
পর্দায় হাসিমুখের আড়ালে থাকা অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের লড়াইয়ে যে এতটা বিষাদ লুকিয়ে ছিল তা হয়ত অনেকেই জানে না। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তার দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন কিছু যন্ত্রণাদায়ক কথা জানিয়েছেন যা শুনে চমকে উঠেছেন অনুরাগীরা।
মাত্র দেড় মাসের পরিচয়ে সুদীপ্ত ঘটককে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বর্ণকমল। থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় করতে গিয়েই তাঁদের আলাপ তারপরেই বিয়ে। অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সেই সময় খুব অল্প বয়সে আবেগের বশবর্তী হয়েই তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই অল্প দিনের মধ্যেই স্বামীর আসল রূপ তার সামনে আসতে শুরু করে।
অভিনেত্রীর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তাকে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অকথ্য গালিগালাজ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেই কেটে গেছে বছরের পর বছর। অভিনেত্রীর দাবি, স্বামী সুদীপ্ত ঘটক শুধুমাত্র মহিলাদের প্রতি দুর্বল ছিলেন না, বরং পরকীয়ায় জড়িয়েও পড়েন বারবার। এমনকি নিজের সহকর্মীর সঙ্গেও সম্পর্কে লিপ্ত হন তিনি। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তার স্বামী, যে তিনি সন্তান নিতে চাননি অথচ অভিনেত্রী জানান তাকেই স্বামী গর্ভপাত করাতে বলেছিলেন, যদিও তিনি করাননি। এমনকি বিয়ের পর তার কাজের জায়গায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো।
ছোট থেকেই মায়ের উপর নেমে আসা অত্যাচার দেখে বড় হয়েছে সে। একসময় পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছয় যে মেয়েই মাকে সাফ জানিয়ে দেয়, “এই লোকটা যদি আর একবার বাড়িতে আসে, আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।” সম্মানের সঙ্গে বাঁচার তাগিদেই শেষ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন স্বর্ণকমল।
বিচ্ছেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বর্তমানে নিজের মেয়েকে নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা থাকছেন স্বর্ণকমল। এই কঠিন সময়ে ঢাল হয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার মা-বাবা। পরিবারের সকলের সমর্থন ও ভালোবাসাই অভিনেত্রীকে নতুন করে বাঁচার শক্তি জুগিয়েছে।

