‘এবার, সঙ্গবদ্ধ হবার সময়…প্রচারবিমুখ আদ্যপান্ত একজন প্রাইভেট মানুষ…ওর সহযোগিতা ছাড়া আমরা..প্রাপ্য সম্মানটুকু…’, সিনেমা বিতর্কে জিতু কমলের পাশে সুদীপা চ্যাটার্জি

জিতু কমল

গত দু-দিন ধরেই জিতু কমালের ‘এরাও মানুষ’ ছবিকে ঘিরে একের পর এক জটিলতা সামনে আসে। টেকনিশয়ান এবং স্পটবয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, টাকা নিয়ে শুটিং না করা, অপেশাদার আচরণ-সহ গুচ্ছের অভিযোগ উঠেছে অভিনেতা জিতু কামালের বিরুদ্ধে। যার জেরে ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে জিতুকে। যদিও আসলে ঠিক কী ঘটেছিল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন জিতু। নিজের স্বপক্ষে সমাজমাধ্যমে প্রমাণও প্রকাশ করেন জিতু। জিতু বলেন, ‘তাই? কই আমাকে তো বাকিরা কিছু বলেননি। আমি ১৬ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আছি। কেউ বলতে পারবেন না, আমি খারাপ ব্যবহার করেছি কারও সঙ্গে।’

এই ঘটনায় যখন সরগরম টলিপাড়া, তখন সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে পাল্টা তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগ তোলেন জিতু। তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত সকলের সঙ্গে শেয়ার করেন।।এবার এখানেই থেমে থাকলেন না তিনি। আইনি পথে হেঁটে বড় পদক্ষেপ নিলেন। অভিনেতা বলেন, “নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

এই ঘটনায় এবার জিতুকে নিয়ে মুখ খুললেন রান্নাঘরের সুদীপা চ্যাটার্জি। লম্বা ফেসবুক পোস্ট জুড়ে সুদীপা লেখেন, “জিতু কামাল- বিতর্ক যাকে পিছু ছাড়ে না,এমন একটা নাম। আমার সাথে জিতুর ঝগড়া সপ্তাহে একদিন বাঁধা থাকে। আবার পরেরদিন থেকে- যেন কিছুই হয়নি এরকম করে ভাব হয়ে যায়। আমি আজ প্রায় ২০ বছর ধরে এই বাংলা ফিল্ম ইন্ডিস্ট্রির মধ্য থেকে- অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থেকেছি। কোনোদিনও,কোনও বিষয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। কিন্তু,আজ মনের ভেতর থেকে একটা তাগিদ অনুভব করে,বাধ্য হয়েই এই লেখটা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।”

জিতু কামাল- মানুষ হিসেবে কেমন? -একটু introvert, ভীষনভাবে আবেগপ্রবণ, পুরোটাই spiritual,প্রচারবিমুখ আদ্যপান্ত একজন private মানুষ। এবার সবচেয়ে বেশি জরুরি যেটা,এই মুহূর্তে- সেটা হলো: জিতু কামাল- professionaly কেমন? জিতু- extemeley cooperation ,production friendly, obedient, respectful, non-demanding, sensitive, intelligent একজন অভিনেতা। জিতুর- ওরকম একটা সহযোগিতা ছাড়া,আমরা মাত্র ৯ দিনে ‘চোর’ এর shooting শেষ করতে পারতাম না।

ও চুপচাপ একটা চেয়ার পেতে,বাইপাসের খোলা রাস্তায়- বসে থেকেছে,অপেক্ষা করেছে, রেল লাইনের ধারে, ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে,তবু পরিচালক না বলা অবধি- সেট ছেড়ে বেরিয়ে যায়নি ।
রোজ ওকে বলতে হতো- “জীতু! ঘুমোও…আর কাজ করোনা..” তাতে উত্তর আসত- “আমি ওদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”এর বেশী আর কিছু বলতে চাইছি না। শুধু , আমাদের- মানে আর্টিস্টদের এবার, সঙ্গবদ্ধ হবার সময়। নায়কের সেই বিখ্যাত সংলাপ মনে করিয়ে দিই? শুটিং এ একমাত্র অভিনেতা হলো- indespensible। তার কোনও সহকারী নেই,যে তার হয়ে কাজটা করে দেবে ।” তাই, অভিনেতা- অভিনেত্রীদের জন্য প্রাপ্য সন্মানটুকু দিতেই হবে। সহমত হলে,নিজের নাম টাইপ করে শেয়ার করুন।